কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রস্তুতির মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই সমাপ্ত হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংলাপ শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ না হওয়ায় কূটনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা জে. ডি. ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তার নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা অনড় শর্তসমূহ স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করলেও ইরান তা গ্রহণে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত ও বেআইনি দাবি’ই আলোচনায় অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত অবস্থান গ্রহণ এবং ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতির আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই সংলাপের আগে পাকিস্তান সরকার দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনসহ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আলোচনার অংশ হিসেবে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেন।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতৈক্যের অভাবে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয়তা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করলেও ইরান মার্কিন শর্ত মানতে সম্মত হয়নি। ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও মূল ইস্যুতে মতপার্থক্য থেকেই গেছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করেছিল, যা এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন না করায় আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে সীমিত রাখা। সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স জানান, আলোচনায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এলেও কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। ফলে ২১ ঘণ্টাব্যাপী এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। বৈঠক শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক মহলে এই অচলাবস্থাকে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনার ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে নির্মাণাধীন ভবনে দেয়াল ধসে মোহাম্মদ ইউসুফ (২৬) নামে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জম হোসেন। নিহত ইউসুফ সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র তিন মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনে বৈদ্যুতিক কাজ করছিলেন। এসময় হঠাৎ দেয়াল ধসে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ইউসুফ বিবাহিত ছিলেন এবং তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সমুদ্রপথে পেতে রাখা নৌ-মাইনগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত ও অপসারণে তেহরান কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাদের মতে, প্রণালিতে মাইন বসানোর প্রক্রিয়া ছিল অগোছালো, ফলে কোথায় কতটি মাইন স্থাপন করা হয়েছে তার নির্ভরযোগ্য নথি নেই। এমনকি কিছু মাইন পানির স্রোতে স্থান পরিবর্তন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত সংঘাতের পর ওই কৌশলগত জলপথে ছোট নৌযানের মাধ্যমে মাইন স্থাপন ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বর্তমানে সীমিত একটি রুট খোলা থাকলেও সেখানে কড়াকড়ি শর্তে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, নির্ধারিত পথের বাইরে গেলে জাহাজগুলো মাইন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের মাইন অপসারণ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ সামরিক অভিযান, যা উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত সক্ষমতা ছাড়া বাস্তবায়ন কঠিন। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।