কুমার নদ এর ওপর সেতু না থাকায় সালথা উপজেলা ও নগরকান্দা উপজেলা সীমান্তবর্তী অন্তত ছয় গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রশি টেনে নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার কল্যাণপট্টি, আইনপুর, সাভার, কুমারকান্দা, বাঘুটিয়া এবং সালথার মাঝারদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনে নদী পারাপার অপরিহার্য। কিন্তু সেতু না থাকায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বেশি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানির স্রোত বাড়লে রশি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ায়।

মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফছারউদ্দীন মাতুব্বর বলেন, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কুমার নদ এর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় এক কৃষককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত তিনটার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুহাম্মদ কাউসার উজ জামান বাবলু (৩৬) ওই এলাকার আবুল কালাম সওদাগরের ছেলে। পেশায় কৃষক বাবলু স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা গেলেও কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পূর্ব আইলীখীল এলাকার একটি মাটি খননকাজ চলমান স্থানে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গহিরা জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বাবলুকে পেছন দিক থেকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, পূর্বে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ থাকলেও পরে তা মীমাংসা হয়েছিল। সম্প্রতি একটি মাটি কাটার ব্যবসা ঘিরে বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, মাটি উত্তোলন ও ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। রাউজান থানার ওসি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর ফুটপাত দখল ও হকার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ছয়টি নির্ধারিত খোলা মাঠে পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এসব স্থানে হকারদের অস্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক। শনিবার (২৫ এপ্রিল) গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে’ শীর্ষক আলোচনায় এ পরিকল্পনার কথা জানান ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, নির্ধারিত ছয়টি স্থানে হকাররা চৌকি বা ট্রলির মাধ্যমে ব্যবসা করতে পারবেন এবং প্রতিদিন শেষে কাঠামো সরিয়ে নিতে বাধ্য থাকবেন। ফুটপাত দখলজনিত অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি বর্তমানে জনদুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে আগে সীমিত সংখ্যক হকার থাকলেও বর্তমানে তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছেছে, যার ফলে হাসপাতাল, জরুরি সেবা ও যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। তিনি আরও বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। টেকসই নগর ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন সেবা সংস্থাকে একক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। আলোচনায় রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নগর সেবাসমূহ একীভূত ব্যবস্থাপনায় আনলে প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ঘাটতি নগর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে পার্কিং ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং গণপরিবহন উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পূর্বাচল প্রকল্পকে কার্যকরভাবে সক্রিয় করার পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ এক মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম বাবু (৩২)। তিনি উপজেলার আট্টাকা এলাকার মদনের ছেলে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।