দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা-এর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট টিউব ফেটে ফের বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়। বয়লার ঠান্ডা হয়ে মেরামত করতে আনুমানিক ৫–৬ দিন সময় লাগবে।
এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে বয়লার পাইপ ফেটে গেলে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টায় এটি পুনরায় চালু করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, টিউব ফাটার কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে এবং মেরামত শেষে পুনরায় চালু করা হবে।
কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উত্তরের পার্বতীপুরসহ অন্তত ৮ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে; গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গজনিত কারণে আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজারের বেশি শিশু, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৫ শিশু, ঢাকায় ৩, সিলেটে ২ এবং রাজশাহীতে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ১ হাজার ৫৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ৬০৭ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৭৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮১ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, উল্লিখিত সময়সীমায় ৪ হাজার ৪৬০ শিশুর দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত দেড় মাসে সারা দেশে মোট ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৪২ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত এবং ২০৯ জনের ক্ষেত্রে উপসর্গভিত্তিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ডিমলা উপজেলার শিক্ষার্থী বাবু হোসেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শ্রুতি লেখকের (scribe) ব্যবস্থা করায় তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। বাবু হোসেন নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং জটুয়াখাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিজ হাতে লিখতে না পারায় তার পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামানের নজরে আসে। পরে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তার জন্য শ্রুতি লেখকের অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন স্বেচ্ছায় তার শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ইউএনও জানান, সকল শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রশাসনের এই উদ্যোগে বাবু হোসেন এখন স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে। বাবু হোসেন জানায়, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করাই তার স্বপ্ন।
কুমার নদ এর ওপর সেতু না থাকায় সালথা উপজেলা ও নগরকান্দা উপজেলা সীমান্তবর্তী অন্তত ছয় গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রশি টেনে নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার কল্যাণপট্টি, আইনপুর, সাভার, কুমারকান্দা, বাঘুটিয়া এবং সালথার মাঝারদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনে নদী পারাপার অপরিহার্য। কিন্তু সেতু না থাকায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বেশি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানির স্রোত বাড়লে রশি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ায়। মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফছারউদ্দীন মাতুব্বর বলেন, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কুমার নদ এর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।