রাজধানীসহ সারা দেশে ক্রমেই বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছে এবং এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুন ও সহিংসতা চালাচ্ছে। এতে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে জনমনে শঙ্কা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু নির্দেশ মোতাবেক সফলতা আসছে না। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের জন্য যেসব অস্ত্র মজুদ করা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। ফলে সেই অস্ত্রই আসন্ন নির্বাচনে বড় নিরাপত্তাঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এখনো উন্নতি ঘটেনি। তবে, শিগগিরই এর সমাধান হবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার এখনো কোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি, যা সরকারের ব্যর্থতা। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি। তবে বিএনপি আশাবাদী খুব শিগগিরই এটির সমাধান হবে।’
জামায়াতের নবগঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক বৈঠকে শুক্রবার বলা হয়, দেশে সন্ত্রাস নির্মূলে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে। অথচ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনার পর নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি, ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের ভয় তৈরি হয়েছে। তবে সেটা এখন কমেনি। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই গুলি করে অন্তত চারটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কারওয়ান বাজার এলাকার অদূরে তেজতুরী বাজারে বুধবার রাতে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে।
গাজীপুরে এনসিপির এক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করে তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি ঘরে বিস্ফোরণে দুই যুবক নিহত হন। পুলিশ বলছে, ককটেল তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ হয়। এসব ককটেল নির্বাচনী প্রচারে হামলা বা নাশকতার জন্য তৈরি হচ্ছিল কি না, সে সন্দেহও রয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
এতে ধারণা করা হচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা, গুলি, হত্যা, বিস্ফোরণ, মব সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার একের পর এক ঘটনা নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। এর আগে নির্বাচনী জনসংযোগে হামলা, গুলি হয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে অতীতে লুট হওয়া পুলিশের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়া। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি অস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশ উদ্ধার হলেও এখনো এক হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। এসব অস্ত্র যদি অপরাধী চক্রের হাতে সক্রিয় থাকে, তাহলে নির্বাচনকালীন সহিংসতার মাত্রা বহুগুণে বাড়তে পারে।
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর কাছে থাকা বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রেরও নির্ভরযোগ্য হদিস এখনো মেলেনি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, পালিয়ে যাওয়া কিছু নেতাকর্মী এসব অস্ত্র গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি কমে যেতে পারে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
আইএসপিআর জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪৯ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১০টি ককটেল, ধারালো অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুধু গত ডিসেম্বরে এক মাসেই উদ্ধার হয়েছে ৯টি পিস্তল, দুইটি এয়ারগান, ১৩টি ম্যাগাজিন, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গানপাউডার, ১২ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ১৭ কেজি ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম নাইট্রেট এবং ৩১৬ রাউন্ড গুলি। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থানাগুলো থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং সীমান্তে ফাঁকফোকর গলিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্ত্র এসে সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছানোর ফলে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এই পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হতে পারে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে, তবে অস্ত্র উদ্ধার খুব সীমিত পরিসরে হয়েছে।
সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকার অন্তত ১৮টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র পাচার হতে পারে, এসব পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যেগুলোর মধ্যে নিয়মিত অবৈধ অস্ত্র আসছে টেকনাফ, বেনাপোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও মেহেরপুর পয়েন্ট দিয়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে যে পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র জব্দ হয়, তার কয়েক গুণ বেশি অস্ত্র দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। এসব অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে গত সোমবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘দু-চারটা অস্ত্র যে ঢুকছে না, তা না। ঢুকছে এবং এগুলো কিন্তু ধরা হচ্ছে। প্রতিদিনই দেখবেন ধরা হচ্ছে। একটা-দুইটা করে কিন্তু প্রতিদিন, একদিন কিন্তু পাঁচটি বিদেশি পিস্তলও ধরা হয়েছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন টেলিনর গ্রুপ–এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি, ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা বিস্তারে টেলিনরের অবদানকেও স্বীকৃতি দেন। অন্যদিকে টেলিনর সিইও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে জানান, প্রতিষ্ঠানটি ৫জি প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ দেশে টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং টেলিনর গ্রুপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে আলোচনায় আসা ব্যারিস্টার রিজওয়ানা ইউসুফ প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি এবং প্রবেশ ও প্রস্থান—দুই সময়ই গণমাধ্যম এড়িয়ে চলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কারাবন্দি সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যারিস্টার রিজওয়ানা ইউসুফের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জামিন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের সূত্রপাত হয় সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একাধিক অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে, যেখানে কয়েক মিনিটের কথোপকথনে অর্থ লেনদেন এবং একাধিক প্রসিকিউটরের নাম উঠে আসে বলে দাবি করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে কিস্তিতে অর্থ প্রদানের কথিত আলোচনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জরুরি বৈঠক করেন এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, আদালত-সংশ্লিষ্ট কোনো পর্যায়ে দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রিজওয়ানা ইউসুফ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
কৃষি খাতে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে আগামী ১৪ এপ্রিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ কার্যক্রমের আওতায় একই দিনে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।