খাগড়াছড়ির দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে শিশুবরণ ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কনিকা খীসা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনিকা খীসা বলেন, শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। শিশুবরণ ও পিঠা উৎসবের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করে এবং তাদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এসব আয়োজন শিশুদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিশুবরণ ও পিঠা উৎসব আয়োজন কমিটির সভাপতি একেএম বদিউজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের নানান ধরনের পিঠার স্বাদ ও বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সহযোগিতায় এই উৎসব আয়োজন করা হয়েছে, যা বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহাজাদী বেগম বলেন, বর্তমানে শিশুরা ফাস্টফুড ও বাইরের খাবারের প্রতি বেশি ঝুঁকছে। তাদের ঘরে তৈরি খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, শিশুবরণ ও পিঠা উৎসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার এলাকায় সড়ক না থাকায় দুই শতাধিক বাসিন্দা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি কাঁচা বা পাকা সড়ক নির্মাণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার মধ্য দিয়ে একটি সড়ক থাকলেও জনবসতি বাড়ার পর সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো মহল্লার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন, লাশ বহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গলিপথই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিছা জানায়, জন্মের পর থেকে এলাকায় কোনো চলাচলযোগ্য সড়ক দেখেনি। রিকশাচালক সিজান মিয়া বলেন, জীবিকার জন্য রিকশা চালালেও সড়ক না থাকায় বাড়িতে রিকশা নেওয়া সম্ভব হয় না। চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সড়কের জন্য জমি বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো মানচিত্রভুক্ত সড়কটি পুনরায় সংস্কার করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর-কে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সতর্কতা জারি থাকলেও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জেটি এলাকায় ৮টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও এখনো বড় ধরনের আবহাওয়াগত প্রভাব পড়েনি। কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে হাত-পাবিহীন নবজাতককে কেন্দ্র করে এক মানবিক ও আবেগঘন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে জন্মদাতা বাবার অস্বীকৃতির বিপরীতে সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন মা। নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে ২২ এপ্রিল জন্ম নেওয়া শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বিষয়টি জানার পর বাবা শিশুটিকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং সামাজিক কারণে তাকে ফেলে আসার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। তবে মা লিজা সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ি ফেরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সন্তানকে পরিত্যাগ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং তিনি তাকে লালন-পালন ও শিক্ষার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নবজাতকের চিকিৎসা ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলে শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মায়ের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অবস্থান প্রশংসিত হলেও বাবার আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।