বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধুলখোলা ইউনিয়নের মাটিয়ালা গ্রামের চারটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইউপি সদস্য রতন রাঢ়ীর ছেলে লিটন রাঢ়ী (৪৫), উজ্জ্বল রাঢ়ী (২৫), জামাল হোসেন (৪৮), মো. আলী (৩২) ও এমদাদ (৫৩) কে আটক করা হয়।
সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেজর জাহিদুল ও লেফটেন্যান্ট জিসানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে নগদ ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩০ টাকা, ১৪৬ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৫ লাখ টাকার একটি চেক, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
সেনাবাহিনী জানায়, আটক ব্যক্তিদের ও উদ্ধারকৃত আলামত আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাসান মোল্লা নামে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকায় হযরতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের হুমকিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকা না ছাড়লে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ভুক্তভোগী আবু হানিফ রাসেল ভূঁইয়া আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকার বাসিন্দা ও নজরুল ইসলাম আজাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তিনি জানান, মোবাইল ফোনে হুমকি পাওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বর্তমানে বাড়িছাড়া অবস্থায় আছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাসেল ভূঁইয়া বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ও দলটির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমনের অনুসারী হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এ কারণেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এদিকে, নজরুল ইসলাম আজাদের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে ভুক্তভোগীকে এলাকায় ফিরতে না দেওয়ার এবং শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে রাজধানীর গুলশানে একটি গোপন স্থানে আওয়ামী লীগের ৪৮ জন পলাতক নেতার সঙ্গে নজরুল ইসলাম আজাদের বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। ওই বৈঠকে সাবেক পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং রাজধানীর গুলশানে নামে-বেনামে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ‘জঙ্গল সলিমপুর’ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও যুবদল নেতা রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে একাধিক সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত গ্রুপ প্রায় চার দশক ধরে এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। পাহাড় কেটে জমি সমতল করে প্লট আকারে বিক্রি, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাটি কার্যত একটি ‘নিষিদ্ধ ভূখণ্ডে’ পরিণত হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রীয় আইন নয়, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিজস্ব বিধিই কার্যকর বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ৫ আগস্টের পর থেকে জঙ্গল সলিমপুরের একক নিয়ন্ত্রণ নিতে যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাটির পূর্বে হাটহাজারী ও দক্ষিণে বায়েজিদ থানা অবস্থিত। প্রবেশপথে লোহার গেট ও পাহাড়ের ঢালে ঢালে পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিচয় ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে অবস্থিত এ এলাকা ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও অপরাধ কাঠামোয় অত্যন্ত সংগঠিত। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি নিয়ে বিস্তৃত এ এলাকার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই জমির দখল ও বাণিজ্য ঘিরেই ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি বড় সংঘর্ষ ঘটে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ২৭ থেকে ৩৫ জন আহত হন। সর্বশেষ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানকালে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলায় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত এবং অন্তত তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে জঙ্গল সলিমপুরকে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে সেখানে শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।