নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নে নারীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী নূরজাহান খানম ইতি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আদিয়াবাদ সরকারি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে প্রায় ৮০–৮৫ জন নারী-পুরুষ একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলেন। তখন বিএনপির স্থানীয় নেতা নাজমুল হক বাদলসহ তার সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে এসে বাধা দেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালান। হামলায় সামসু উদ্দিন খান ও রোকসানা ওয়াহিদসহ অনেকে আহত হন এবং নারীদের বোরকা টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার ৮ দিন পর থানা থেকে অভিযোগে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা রুজু হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মানহানির ঘটনাও ঘটাচ্ছে।
রায়পুরা থানার ওসি মজিবর রহমান বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযোগ সংশোধনের কারণে দেরি হয়েছে জানালেও দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল থেকে।
ময়মনসিংহের ফুলপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ বিশেষ দায়রা জজ আদালত-এর বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নূর হোসেন (৫৭), সহিদুল (৩৭) ও উজ্জল মিয়া (৩২)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সোহরাব আলী (৬২), রূপা খাতুন (৫৭) ও রেহানা খাতুন (৫৪)। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কৃষক আশ্রাব আলীকে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের ছেলে জুলহাস ছয়জনকে আসামি করে ফুলপুর থানা-এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মোহাম্মদ আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী এ এইচ এম খালেকুজ্জামান।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাটি খননের সময় একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ি থেকে শেলটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার উপজেলার দৈয়ারা গ্রামে মাটি খোঁড়ার সময় শ্রমিকরা বস্তুটি খুঁজে পান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা মাটি খননের সময় লোহার মতো শক্ত বস্তুটি পেয়ে পরিষ্কার করলে এটি মর্টার শেল বলে শনাক্ত হয়। পরে কৌতূহলবশত সেটি বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি বহু পুরোনো এবং সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ের। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে জেন্ডার বান্ধব গ্রিন স্কুল কর্মসূচি বাস্তবায়নে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং REACTS IN প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন। সভায় জানানো হয়, জেলার ৪২টি নির্বাচিত বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে জেন্ডার সংবেদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও প্রকল্প কর্মকর্তারা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি বলেন, এ উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী। তিনি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।