গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছায়া সঙ্গী হিসেবে পাশে ছিলেন ফাতেমা বেগম। গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন, হাসপাতাল, বিদেশের মাটিতে এমনকি সেচ্ছায় কারগারেও তিনি ছিলেন নেত্রীর ছায়াসঙ্গী।
ভোলার মেয়ে ফাতেমা বেগম ২০১০ সাল থেকে খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে তিনি শুধু গৃহকর্মীই থাকেননি, হয়ে উঠেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এক নির্ভরযোগ্য নির্ভরতা। চেয়ারপারসনের প্রয়োজনীয় সব কাজ গুছিয়ে রাখা এবং তাঁর ব্যক্তিগত ছোটখাটো সব বিষয়ের খেয়াল রাখতেন এই স্বল্পভাষী নারী।
ফাতেমার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৮ সালে। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ার পর আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফাতেমাও স্বেচ্ছায় কারাগারে যান। টানা প্রায় ২৫ মাস নেত্রীর সেবায় তিনি জেলখানার চার দেয়ালে বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। নেত্রীর প্রতি এমন একনিষ্ঠ আনুগত্য রাজনৈতিক মহলে আজও বিস্ময় সৃষ্টি করে।
২০১৩ সালে যখন গুলশান কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়াকে আটকে দেওয়া হয়েছিল, তখন নেত্রীর পাশে পতাকা হাতে অনড় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১৫ সালে টানা ৯২ দিন গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকালেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য খালেদা জিয়াকে একা ফেলে যাননি।
বর্তমানে ৪০ বছর ছুঁইছুই ফাতেমা এক সন্তানের জননী। রাজধানীর শাহজাহানপুরে মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন তিনি, পরে বিএনপির এক নেতার মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ‘ফিরোজা’র অন্দরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় এক গভীর মানবিক সম্পর্কের নাম ফাতেমা।
সংবিধানের ১৫৮(২)(খ) অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আহমেদ নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সিইসির বাসভবনে উপস্থিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২ আসনে জয়ী বিএনপি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণ করবে। এর পরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে দুইজন পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার খোলা প্রাঙ্গণে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারি ও রাজনৈতিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর আগে একই দিনে সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরপরই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যেই সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন করা হবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে শপথ পড়ালেও এবার স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বে না থাকায় সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।