রাজধানীতে দুই সপ্তাহ ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও পাইপলাইন গ্যাসের সংকট চলছেই। শনিবার (১০ জানুয়ারি) মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে আবারো তিতাস গ্যাসের ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভাল্ভ ফেটে যাওয়ায় বিতরণ লাইনে চাপ আরও কমে গেছে। এতে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে স্বল্প।
তিতাস জানিয়েছে, পাইপলাইনের মেরামত চলছে। পূর্বের আমিনবাজার দুর্ঘটনায় তুরাগ নদীর তলদেশে ট্রলারের নোঙরের আঘাতে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার কারণে পাইপে পানি প্রবেশ করেছে। মেরামত সম্পন্ন হলেও সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে কয়েক দিন লাগতে পারে।
এদিকে এলপিজির বাজারেও সংকট অব্যাহত। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ সীমিত, ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বেড়ে ২ থেকে ২.৫ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। ধনাঢ্যরা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, কেউ কেউ রাইস কুকারে রান্না করছেন বা রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনছেন, তবে স্বল্প আয়ের মানুষ কার্যত সংকটে রয়েছেন।
তিতাস জানায়, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, জিগাতলা, খিলগাঁও, বাড্ডা ও নাখালপাড়া এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিক সেবায় সমস্যা পাচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ২টি আসন এবং একটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান ১৩ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতে বেসরকারি ফলাফল হস্তান্তর করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। 🔹 বিএনপি বিজয়ী আসন (৮টি) ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর): ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন ময়মনসিংহ-৪ (সদর): আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা): জাকির হোসেন বাবলু ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল): ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ময়মনসিংহ-৮: প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল): ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-পাগলা): মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা): ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু 🔹 জামায়াত জোট (২টি) ময়মনসিংহ-২ (তারাকান্দা-ফুলপুর): মুফতি মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া): মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন 🔹 স্বতন্ত্র (১টি) ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): সালমান ওমর রুবেল ফলাফলে জেলায় বিএনপির প্রাধান্য স্পষ্ট হলেও কয়েকটি আসনে জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পাঠাপাড়া গ্রামে ককটেল তৈরির সময় একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে বাড়ির ইটের দেয়াল ধসে গেছে এবং টিনের চাল উড়ে গেছে। আহতরা হলেন মিনহাজ (৫২), বজলুর রহমান (২০) এবং মো. শুভ (২০)। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
রংপুর-৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া) আসনের নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল পরিবর্তন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন এমদাদুল হক ভরসা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি ফল পুনর্গণনার দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এনামুল আহসান, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে এক কর্মকর্তা আবেদন গ্রহণ করেন। এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ জাতীয় নাগরিক পার্টি’র প্রার্থী আখতার হোসেনের সমর্থকেরা প্রশাসনের সহযোগিতায় মব সৃষ্টি করে ভীতি ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেন এবং ফলাফল প্রভাবিত করেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। পুনর্গণনা হলে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এমদাদুল হক ভরসা বলেন, ন্যায়বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।