ঢাকার সাত সরকারি কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ)–এর অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীতে আবারও সড়ক অবরোধে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় ও মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড়ে অবস্থান নেন, ফলে মিরপুর সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ চলাকালে তাঁরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন,
“ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করাই আমাদের একমাত্র দাবি। আর কোনো সময়সীমা আমরা মানতে রাজি নই।”
অবরোধের কারণে আজিমপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যানবাহন না পেয়ে বহু মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। ভোগান্তিতে পড়া যাত্রী মো. হানিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

এর আগের দিনও একই দাবিতে সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা ইস্যুতে ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন, যা রাজধানীর যান চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পরিমার্জিত অধ্যাদেশের খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সাত কলেজে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকট চলমান। সেই সংকট নিরসনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রাম জাতীয় রাজনীতিতে বিরল নজির স্থাপন করেছে—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই গ্রামের তিন বাসিন্দা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে জয়লাভ করেছেন গহিরার বাসিন্দারা, যা পুরো এলাকায় উৎসবের মতো উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। জয়ী সাংসদরা হলেন: চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনে তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাঈদ আল নোমান। তিনজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুসারে, চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট; চট্টগ্রাম-৭ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৪২ ভোট; আর চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভোটের তুলনায় এ জয় যথেষ্ট প্রভাবশালী। ফল ঘোষণার পর গ্রামের বাড়ি বাড়ি মিষ্টি বিতরণ, মিছিল এবং শুভেচ্ছা বিনিময় দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। বিশ্লেষকরা বলেন, গহিরার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রভাবশালী পরিবার এবং স্থানীয় সংগঠনের দৃঢ় ভিত্তি। এ ঘটনায় রাউজান ও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্বও জাতীয় পর্যায়ে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, মোট ১৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): জামায়াত প্রার্থী মোঃ ইজ্জত উল্লাহ ১,৯৩,৭৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোঃ হাবিবুল ইসলাম হাবিব ১,৬৯,৯৯৫ ভোট পেয়েছেন। ভোটার উপস্থিতি ৭৫.৬৪%। সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল খালেক ২,৬৬,৯৫৯ ভোট পেয়ে জয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোঃ আব্দুর রউফ ১,১৬,২৯৩ ভোট পেয়েছেন। ভোটার উপস্থিতি ৭৩.৭৯%। সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার ১,৮৪,২৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) ১,০৫,৩৭৯ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন তৃতীয় অবস্থানে ৫৬,৮১৯ ভোট পেয়েছেন। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): জামায়াত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম ১,০৬,৯১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোঃ মনিরুজ্জামান ৮৫,৪২৬ ভোট পেয়েছেন। সার্বিকভাবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার বুড়ির বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিরিণ হক গার্লস হাই স্কুল, মুলঘর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও খোদেজা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। কেউ দলবেঁধে, কেউ সন্তান কোলে নিয়েও ভোট দিতে আসেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে অনেক ভোটার জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৫২টি ভোটকেন্দ্র ও ২৬০টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৮টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ফকিরহাটে মোট ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৩ হাজার ৭১০ জন ও নারী ৬৫ হাজার ৩৮৭ জন। পোস্টাল ভোট রয়েছে ৯৬৪ জন। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে চলছে।