কৃষি ও জলবায়ু

পরিবেশ ও জলবায়ুর পরিবর্তন: মানব সভ্যতার জন্য এক অদৃশ্য হুমকি

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশ দূষণের প্রভাব কীভাবে মানবজীবনকে প্রভাবিত করছে, এবং এর প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কীজানুন বিস্তারিত। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং এক বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা, বরফ গলার হার, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে ইতোমধ্যেই প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায়জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা’, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। তবে বাস্তবায়নে জনসচেতনতা আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ

জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন নাইট্রাস অক্সাইডের মত গ্যাস পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়িয়ে তোলে। শিল্পায়ন, যানবাহনের ধোঁয়া, বন নিধন, এবং কয়লা তেল নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এর মূল উৎস। পাশাপাশি, অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদের অপ্রয়োগও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হঠাৎ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা অতিবৃষ্টির কারণে কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। একইসাথে পানির অভাব, জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস এবং স্বাস্থ্য সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী ২০৩০ বছরের মধ্যে কোটি কোটি মানুষ বাসস্থান হারাবে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আমাদের ব্যক্তি সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে দায়িত্ব নিতে হবে। নিচে কিছু কার্যকর উদ্যোগ তুলে ধরা হলো

  • পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। এটি কার্বন শোষণ করে এবং বাতাস বিশুদ্ধ রাখে।
  • পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য ব্যবহার করুন:
  • গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহার, সৌরবিদ্যুৎ গ্রহণ এবং বিদ্যুৎ অপচয় কমানো জরুরি।
  • বর্জ্যকে যথাযথভাবে ভাগ করে ফেলুন এবং কম্পোস্টিং চর্চা করুন।

পরিবেশ জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের। আজকের ছোট একটি উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে পারে। সুতরাং এখনই সময়, পরিবেশ রক্ষায় আমরা সবাই এগিয়ে আসি।

 

কৃষি ও জলবায়ু

আরও দেখুন
ছবি: প্রতিনিধি
মধু চাষে মধুর জীবন গড়ছেন শিক্ষক সাহানুর

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের সাহানুর ইসলাম শিক্ষকতার পাশাপাশি মধু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করছেন। জলঢাকার বগুলাগাড়ী হুসাইনিয়া (রাঃ) কওমিয়া মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে স্বল্প বেতনে চার সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মধু চাষ শুরু করেন। এখন এই পেশা থেকেই বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে তার। সরিষা ক্ষেত, মিষ্টিকুমড়া ক্ষেত, লিচুবাগানসহ বিভিন্ন ফলবাগান ও ফসলের মাঠে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেন সাহানুর। নিজ জেলা ছাড়াও ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তিনি মধু সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয় বাজার ও অনলাইনে তা বিক্রি করেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫টি মৌবাক্স রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি এপিস মেলিফেরা এবং ৫টি এপিস সেরেনা প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। এপিস সেরেনা জাতের মধুর কেজি বাজারে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, আর এপিস মেলিফেরা প্রজাতির মধু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি লিচুবাগানে বসানো ১০টি মৌবাক্স থেকে হারভেস্টিং মেশিনে প্রায় ৭ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। এটি লিচু ও মিষ্টিকুমড়া ফুলের সমন্বিত মধু। সাহানুর ইসলাম বলেন, “মধু চাষে খরচ খুব কম। মৌসুমে তেমন খরচ লাগে না। বর্ষাকালে মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছুটা চিনি দিতে হয়। তবে মৌমাছির সংখ্যা বাড়লে মধু উৎপাদনও বাড়ে।” তিনি আরও জানান, মৌমাছি শুধু মধুই দেয় না, পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও সবজির ফলনও বাড়ায়। তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিভিন্ন ফসলের জমিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্থানীয় মিষ্টিকুমড়া চাষি সহিদুল ইসলাম জানান, “মৌচাষের কারণে জমিতে পরাগায়ন ভালো হয়। গত বছর ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এবার লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছি।” এ বিষয়ে আবু মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলায় বর্তমানে ২৭ জন মৌচাষি রয়েছেন। মৌচাষের ফলে বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষে ফলন বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ খাতে আরও প্রণোদনা দেওয়া হলে উৎপাদন বাড়বে এবং অর্গানিক মধু রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

নীলফামারী প্রতিনিধি> মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের লিচুতে এবার ২০ হাজার টনের স্বপ্ন

ছবি: প্রতিনিধি

মৌ মৌ গন্ধে সুরভিত করে তুলেছে সজনে ফুল, বাড়ছে বাণিজ্যিক চাষ

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীতে নিজের নামে উদ্ভাবিত মাল্টার জাত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান রাজু

ছবি: প্রতিনিধি
দেবীগঞ্জে গম ও ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনা, গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাফল্য

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে গম চাষে ইঁদুর দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্লক-৩ এলাকায় বারি গম-৩৩ জাতের প্রজনন বীজ ৪.৮০ হেক্টর, বারি গম-৩০ এবং বারি গম-৩২ যথাক্রমে ৫.৫ হেক্টর জমিতে বপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি খই ভুট্টা-১ (০.৭৫ হেক্টর) ও বারি মিষ্টি ভুট্টা-১ (০.৮০ হেক্টর) চাষ করা হচ্ছে। দেবীগঞ্জ বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান, “লাইন বা সারিভিত্তিক নালাভিত্তিক চাষাবাদ বীজের অপচয় কমায়, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে। সঠিক জাত ও সময়ে বপন করলে কৃষকরা বেশি ফলন পাবেন। বারি গম-৩৩ জাতে প্রতি কেজিতে ৫০–৫৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ব্যবহার করা হয়, যা পুষ্টি বৃদ্ধিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।” BWMRI-এর নতুন উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি বিএডিসি (BADC) মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের গম উৎপাদনে মানসম্মত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

আমির খসরু লাবলু জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম চাষ করে জীবন বদলাতে চান সুমন

ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে সরিষা ও মধু আহরণ

নীলফামারীতে আলুখেতে লেটব্রাইট রোগ, দিশাহারা চাষিরা

ছবি: প্রতিনিধি
কৃষক আজিজুলের মুখে তৃপ্তির হাঁসি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামের কৃষক আজিজুল হাকীম শীতপ্রবাহ উপেক্ষা করে নিজের এক একর জমিতে কুইক স্টার বিটকপি চাষ করে বাম্পার ফলন তুলে নিয়েছেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের কৃষিজীবনে এটি তার অন্যতম সফল চাষ বলে জানাচ্ছেন তিনি। চাষি আজিজুল হাকীম জানান, তার ক্ষেতে কুইক স্টার এবং জিরো-৫ প্রজাতির বিটকপি চারা রোপণ করা হয়েছে। ৮৫ দিনের চাষে তিনি প্রায় ৫০০ মন বিটকপি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তবে ফলন অনুযায়ী তিনি আশা করছেন প্রায় ৫ লাখ টাকার লাভ করতে পারবেন। এ ফসল থেকে তিনি নিজের পরিবারে বৃদ্ধ মাতা, স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ সংসারের সব ব্যয় মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করতে পারবেন।     আজিজুল হাকীম বলেন,  “পৈত্রিক জমিতে কুইক স্টার চাষ করে এত ভালো ফলন পেয়েছি, এটি আমার জন্য এক অনন্য আনন্দ। পরিশ্রমের মূল্য এই ফলন দেখিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষক শীতকালীন রবি শস্য ও সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।” উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম আলী আশরাফ জানান, “আজিজুল হাকীমের সফলতা পুরো ইউনিয়নের জন্য দৃষ্টান্ত। কৃষি দপ্তর নতুন নতুন ফসল উৎপাদন ও আধুনিক চাষপ্রণালীর প্রশিক্ষণ দিয়ে এমন চাষিদের উৎসাহিত করছে। শীতকালীন সবজি চাষে এ ধরনের সফলতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” সরেজমিন দেখা যায়, আজিজুল হাকীমের একর জমিতে সবুজ কুইক স্টার বিটকপি ঘনবিপুলভাবে ছড়িয়ে আছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের চোখে স্বচ্ছ আনন্দ ও চাষির মুখে সন্তুষ্টির হাসি প্রকৃত অর্থেই তার সফলতার প্রমাণ বহন করছে।

মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
Irregular rainfall disrupts farming

বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণে চাষাবাদে ব্যাঘাত, কৃষকদের আয় কমছে দিনদিন

সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

0 Comments