প্রযুক্তি

AI আসছে, চাকরি যাচ্ছে? বাস্তবতা ও ভয়ের মাঝে সত্যটা কোথায়

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৫

“আপনার কি কখনও মনে হয়েছে, আপনার কাজটা একদিন হয়তো AI করে ফেলবে?”


একসময় যে কাজগুলো ছিল কেবল মানুষের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, আজ সেগুলো একে একে চলে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে। লেখালেখি, ডিজাইন, কাস্টমার সার্ভিস, এমনকি কোডিং পর্যন্ত—সবখানে এখন AI-এর হাতছানি।

এই পরিবর্তনের গতি দেখে অনেকেই আতঙ্কিত। কেউ বলছেন, "চাকরি হারাবো", আবার কেউ বলছেন, "AI আমাদের দাস বানাবে!" কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আতঙ্কের পেছনে আসল সত্যটা কী?

 

বস্তুত, AI হচ্ছে একটা দ্বিমুখী বাস্তবতা:


একদিকে এটি অনেক কাজ অটোমেট করছে, কম খরচে, বেশি গতিতে। অন্যদিকে, এটি এমন কিছু কাজ তৈরি করছে, যা আগে কখনো ছিল না। ফলে ভয় যেমন আছে, তেমনি সুযোগও অসীম।

এই লেখায় আমরা চেষ্টা করবো সেই “ভয়ের কুয়াশা” সরিয়ে দেখে নিতে বাস্তবতা কতটা গাঢ় বা আশাব্যঞ্জক।
আপনি জানতে পারবেন—

 

  • AI ইতিমধ্যে কোন কোন খাতে প্রভাব ফেলছে

  • ভবিষ্যতে কোন পেশা ঝুঁকিতে, আর কোনটা উন্নয়নের দিকে

  • বাংলাদেশে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে

  • এবং কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন এই প্রযুক্তির ঢেউয়ে টিকে থাকার জন্য

 

চলুন, চোখ রাখি সেই সত্যের দিকে—যেটা আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতার গল্প বলে।

 

১. AI কোথায় কোথায় কাজ করছে ইতিমধ্যে?

 

এক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মানেই ছিল সাই-ফাই সিনেমার রোবট। এখন সেটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঢুকে পড়েছে—চুপচাপ, কিন্তু গভীরভাবে। আপনি হয়তো বুঝতেও পারছেন না, দিনে ৫–১০ বার আপনি AI-এর সাথে যোগাযোগ করছেন!

চলুন দেখি AI ইতিমধ্যে কোন কোন জায়গায় কাজ করছে—

 

📝 কনটেন্ট তৈরি

 

  • চ্যাটজিপিটি (ChatGPT): ব্লগ লেখা, ইমেইল লেখা, এমনকি কবিতা বা স্ক্রিপ্টও লিখে দিচ্ছে

  • Grammarly, Quillbot: লেখার ভুল ধরছে, লেখাকে প্রফেশনাল করছে

  • Jasper.ai, Copy.ai: মার্কেটিং কনটেন্ট তৈরি করছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে

  •  

👉 অনেক কনটেন্ট রাইটার এখন AI-কে সহকারী হিসেবে নিচ্ছেন, কেউ কেউ চাকরি হারাচ্ছেনও।

 

🎨 ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট

 

  • Canva AI, Midjourney, DALL·E: ব্যানার, পোস্টার, থাম্বনেইল—সবই বানিয়ে দিচ্ছে AI

  • Runway: ভিডিও জেনারেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ, অডিও ক্লিনিং—সেকেন্ডের মধ্যে

  • ব্র্যান্ডিং/ক্যাম্পেইন ডিজাইনেও এখন মানুষ AI-এর সাহায্য নিচ্ছে

👉 ফলে গড়পড়তা ডিজাইনারদের কাজ কমে যাচ্ছে, কিন্তু দক্ষদের জন্য AI শক্তি বাড়াচ্ছে।

 

💬 কাস্টমার সার্ভিস ও কমিউনিকেশন

 

  • চ্যাটবট (Like Zendesk, Intercom): কাস্টমার সার্ভিসে মানুষ বসানো লাগছে না

  • ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট (Siri, Alexa, Google): মানুষের ভাষা বুঝে উত্তর দিচ্ছে

  • AI এখন এমনকি কল করে কথা বলছে (Google Duplex!)

 

👉 কোম্পানি খরচ কমাচ্ছে, অথচ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ঠিক রাখছে।

 

💻 কোডিং ও ডেভেলপমেন্ট

 

  • GitHub Copilot: ডেভেলপাররা কোড লেখার সময় AI থেকে সাজেশন পাচ্ছেন

  • Code Interpreter/AI Debuggers: বাগ ধরছে, কোড অপটিমাইজ করছে

  •  

👉 জুনিয়র ডেভেলপারদের কাজ অনেকটাই অটোমেটেড হচ্ছে, কিন্তু সিনিয়রদের দক্ষতা আরও মূল্যবান হয়ে উঠছে।

 

📊 ডেটা অ্যানালাইসিস ও বিজনেস ইনটেলিজেন্স

 

  • AI Tools (Tableau AI, Power BI, ChatGPT plugins): বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করছে, ট্রেন্ড বের করছে

  • পূর্বাভাস, গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টেও AI ব্যবহৃত হচ্ছে

 

👉 যেসব কাজ আগে এক্সেল আর বিশ্লেষকের ওপর নির্ভর করতো, এখন সেখানে AI কাজের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

🔍 তাহলে প্রশ্ন: AI কি মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে?

 

আসলে AI “চাকরি নিচ্ছে” না, বরং চাকরির ধরন বদলে দিচ্ছে। যারা AI জানে না বা মানিয়ে নিচ্ছে না, তাদের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু যারা শিখছে, তারা AI-কে সহকারী বানিয়ে আরও বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে।

 

২. কোন পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?

প্রযুক্তি এসেছে সুবিধা দিতে, তবে সেটা সবসময় সবার জন্য সুখবর নয়। বিশেষ করে যেসব পেশা পুনরাবৃত্তিমূলক (repetitive), পূর্বনির্ধারিত নিয়মে চলে বা খুব বেশি মানুষের সংবেদনশীলতা দরকার হয় না—সেই কাজগুলো এখন AI ও অটোমেশন দ্বারা প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিতে

 

চলুন দেখে নিই কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ও সেক্টর:

 

🧮 ১. ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক-অফিস কাজ

 

এই কাজগুলোতে শুধু নিয়ম মেনে তথ্য বসানো হয়—যা AI খুব সহজে করতে পারে।

 

  • এক্সেল-ভিত্তিক ইনপুট

  • ডকুমেন্ট প্রসেসিং

  • রিপোর্ট তৈরি

 

👉 কোম্পানিগুলো এখন সফটওয়্যার বা AI টুল দিয়ে এসব কাজ মিনিটেই করে নিচ্ছে।

 

📞 ২. কাস্টমার সার্ভিস / কল সেন্টার

 

চ্যাটবট ও ভয়েসবট এখন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

 

  • FAQ support

  • প্রোডাক্ট ইনফো

  • বেসিক সমস্যা সমাধান

 

👉 ফলে মানবিক কল সেন্টার এজেন্টদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

 

✍️ ৩. সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং

 

AI এখন ব্লগ, ক্যাপশন, প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন লিখে ফেলতে পারে কয়েক সেকেন্ডে।

 

  • কম্পিটিশন বাড়ছে

  • কনটেন্টের দাম কমছে

  •  

👉 যারা কেবল rewriting বা basic writing করতেন, তারা ঝুঁকিতে। তবে যারা স্ট্র্যাটেজি ও ক্রিয়েটিভিটি জানেন, তারা এখনো নিরাপদ।

 

🔁 ৪. অ্যাকাউন্টিং-এর নির্দিষ্ট কিছু অংশ

 

বেসিক হিসাব, ইনভয়েস, রিপোর্টিং—সবই সফটওয়্যার দিয়ে করা যাচ্ছে

 

  • QuickBooks, Xero, Zoho Books ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো অটোমেট করছে

  • রেকর্ড কিপিং আর রিপোর্ট জেনারেশনের কাজ কমে যাচ্ছে

  •  

👉 তবে কনসালটিং, ট্যাক্স স্ট্র্যাটেজি ও জটিল অডিট এখনো মানুষের ওপর নির্ভরশীল।

 

🌍 ৫. ট্রান্সলেশন ও সাবটাইটলিং

 

Google Translate, DeepL, বা AI-চালিত সাবটাইটল টুল এখন অনেক বেশি নিখুঁত

  • বহুজাতিক মিডিয়া, ইউটিউবাররা এখন AI দিয়ে সাবটাইটেল বানাচ্ছেন

  • Human translator এর প্রয়োজন কমে যাচ্ছে

  •  

👉 তবে সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক অনুবাদে এখনো AI পুরোপুরি দক্ষ নয়।

 

📌 কেন এই কাজগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

 

  • কারণ এগুলোর কাজ খুব স্ট্রাকচার্ড ও পুনরাবৃত্তিমূলক

  • AI এসব কাজ অল্প সময়ে, কম খরচে, ভুল কম করে করতে পারে

  • কোম্পানিগুলো efficiency ও cost-saving-এর জন্য AI বেছে নিচ্ছে

 

🎯 তাহলে করণীয় কী?

 

এইসব পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলে এখনই নিজেকে রিস্ক থেকে বাঁচানোর সময়—

 

  • শুধু কাজ না, মূল্য যোগ করা শিখুন

  • Creative thinking, emotion, human judgment যেখানে দরকার—সেই স্কিলে জোর দিন

  • AI-কে প্রতিদ্বন্দ্বী না, সহযোগী বানিয়ে ফেলুন

 

৩. AI চাকরি নিচ্ছে, কিন্তু তৈরি করছে না?

 

আমরা যখন বলি “AI চাকরি কেড়ে নিচ্ছে”, তখন একটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়—"তাহলে মানুষ কোথায় যাবে?"
কিন্তু প্রশ্নটা শুধু চাকরি হারানোর না, বরং এটা জানা দরকার, AI কি নতুন চাকরিও তৈরি করছে না?

📊 বাস্তবতা: কিছু চাকরি যাচ্ছে, অনেক নতুন সুযোগ আসছে

 

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে:

 

২০২৫ সালের মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন চাকরি বিলুপ্ত হবে, তবে ৯৭ মিলিয়ন নতুন ধরনের চাকরি তৈরি হবে।

 

মানে স্পষ্ট—পুরনো কাজ হয়তো কমে যাচ্ছে, কিন্তু নতুন ধরণের স্কিলভিত্তিক কাজ বাড়ছে।

 

🌱 AI-ভিত্তিক নতুন পেশা ও রোল

 

🧠 ১. Prompt Engineer

 

AI-কে কাজ করাতে হলে তাকে ঠিকভাবে প্রশ্ন করতে হয়।
👉 যারা জানে কীভাবে গঠনমূলক, কৌশলী প্রম্পট দিতে হয়—তাদের চাহিদা বাড়ছে।

 

🛠️ ২. AI Trainer / Evaluator

 

AI যেন ভুল না শেখে, সেটা নিরীক্ষণ করার জন্য দরকার মানুষ।
👉 এই ট্রেইনাররা সিস্টেমকে “মানবিকভাবে” শেখাতে সাহায্য করেন।

 

🔍 ৩. AI Ethicist / Policy Expert

 

AI যেন পক্ষপাত না করে বা মানুষের ক্ষতি না করে—এ জন্য নীতিমালা দরকার।
👉 এই ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নতুন চাকরি।

 

🧩 ৪. Human-AI Collaboration Specialist

 

মানুষ ও AI একসাথে কাজ করবে—এই সমন্বয় যারা বুঝবেন, তারা অনেক মূল্যবান হয়ে উঠবেন।
👉 বিশেষ করে বড় কোম্পানিতে AI Integration ম্যানেজ করতে।

 

📈 ৫. Automation Manager / Analyst

 

যেসব কোম্পানি AI বা অটোমেশন চালু করছে, তাদের জন্য দরকার বিশেষজ্ঞ
👉 যিনি বুঝবেন কোন অংশ অটোমেট করা উচিত, আর কোনটা নয়।

 

📌 উপসংহার: বদলাবে কাজ, থাকবে কাজ

 

AI হয়তো কিছু পুরনো স্কিলের দাম কমিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু নতুন কাজের বাজার তৈরি করছে অন্যদিকে।

 

✅ যারা বদলাবে, শিখবে, মানিয়ে নেবে—তারা আগেই থাকবে
❌ যারা ভাবছে “AI তো আমার জায়গা নিচ্ছে”, কিন্তু কিছু করছে না—তারা সত্যিই ঝুঁকিতে

 

৪. বাংলাদেশে কী হবে?

 

বিশ্বে যখন AI নিয়ে বিপ্লব চলছে, তখন প্রশ্নটা খুব প্রাসঙ্গিক—বাংলাদেশ এর প্রভাবে কতটা বদলাবে, আর আমরা কতটা প্রস্তুত?

বাংলাদেশের চাকরির বাজার এখনও মূলত শ্রমনির্ভর, তবে ডিজিটাল রূপান্তরের ঢেউ লাগতে শুরু করেছে। আর এই সময়েই AI ধীরে ধীরে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে আমাদের জীবনে—অনেকে টেরও পাচ্ছেন না।

 

🖥️ 🧾 ১. আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে AI-এর প্রভাব

 

বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটা অংশ কাজ করেন:

 

  • কনটেন্ট রাইটিং

  • গ্রাফিক ডিজাইন

  • ভিডিও এডিটিং

  • ডেটা এন্ট্রি

  • ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

  •  

এই সব কাজেই এখন AI বিকল্প হয়ে উঠছে। যেমন—

 

  • Fiverr বা Upwork-এ অনেক ক্লায়েন্ট AI দিয়ে বেসিক কনটেন্ট করাচ্ছেন

  • বেসিক ডিজাইন বা সাবটাইটল বানাতে Midjourney বা Descript ব্যবহার হচ্ছে

  • Virtual Assistant-এর কাজ অনেকটাই এখন Zapier বা AI চ্যাটবট দিয়েই সেরে ফেলা যাচ্ছে

 

👉 যারা শুধু টাস্ক-ভিত্তিক কাজ করতেন, তাদের আয় হ্রাস পাচ্ছে বা কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

 

🎓 ২. শিক্ষার মানসিকতা ও স্কিল-গ্যাপ

 

AI ব্যবহারের জন্য শুধু প্রযুক্তি না, দরকার mindset. কিন্তু এখনও—

 

  • অনেক শিক্ষার্থী টাইপিং শিখে মনে করছে, “আইটি পারি”

  • কোডিং না শিখেও “ডেভেলপার” দাবি করা হয়

  • বাস্তবভিত্তিক স্কিল শেখার চেয়ে সনদপত্র বেশি গুরুত্ব পায়

 

👉 এভাবে AI-সহযোগী বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে, যদি না mindset বদলানো যায়।

 

💡 ৩. AI-র মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা

 

সব খবর খারাপ না! বরং যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, বাংলাদেশ অনেকদূর এগোতে পারে।

 

✅ গ্রামে বসেই একজন তরুণ ChatGPT, Canva AI, এবং freelancing দিয়ে আয় করতে পারেন
✅ AI দিয়ে কাস্টমার সার্ভিস, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট অটোমেশন করে ছোট ব্যবসাও চালাতে পারেন
✅ SME বা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো অল্প খরচে প্রযুক্তিগত সমাধান পেতে পারেন

 

বাংলাদেশের তরুণদের অনেকেই এখন AI Tools-ভিত্তিক কোর্স, ইউটিউব চ্যানেল, এমনকি স্টার্টআপ গড়ে তুলছেন—এটাই ভবিষ্যতের পথে আশা জাগায়।

 

⚠️ তাহলে চ্যালেঞ্জ কী?

 

  • AI নিয়ে সচেতনতা কম

  • স্কিল গ্যাপ বেশি

  • ইংরেজি দুর্বলতা AI ব্যবহারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়

  • সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণের অভাব

 

📌 সমাধানের দিক

 

  • AI ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্কিল শেখাতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে উদ্যোগ

  • বাংলাভাষায় AI শেখার কোর্স, টিউটোরিয়াল তৈরি

  • ফ্রিল্যান্সারদের রিস্ক থেকে বেরিয়ে “AI-Augmented Worker” হওয়ার প্রশিক্ষণ


বাংলাদেশে AI একদিকে সুযোগ, আরেকদিকে হুমকি। যাদের মানসিকতা দ্রুত শিখে মানিয়ে নেওয়ার, তাদের জন্য AI হতে পারে জয় করার অস্ত্র। আর যারা পরিবর্তন মানতে ভয় পান—তাদের জন্য এটা হতে পারে পিছিয়ে পড়ার সাইরেন।

 

 

৫. আতঙ্ক নয়, প্রস্তুত হও

 

AI নিয়ে যে ভয়, তা একেবারেই স্বাভাবিক। যখনই বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, মানুষ উদ্বিগ্ন হয়। তবে ভয় আর হতাশায় আটকে থাকলে কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। আসল কথা হলো—আমাদের কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

 

🔑 AI কে শত্রু না, বরং সহযোগী মনে করুন

 

AI আসছে মানুষকে বদলাতে নয়, সাহায্য করতে। যারা AI-কে বোঝে, তাকে হাতিয়ার বানায়, তারা আজকের পৃথিবীর শীর্ষে।

 

🧰 নিজের কাজকে AI-proof করতে করণীয়

 

১. সৃজনশীলতা (Creativity)

 

  • যেসব কাজ AI করতে পারে না, যেমন নতুন কিছু ভাবা, নকশা করা, গল্প বলা—সেগুলো শিখুন।

  • নতুন আইডিয়া দিয়ে কাজের মান বাড়ান।

 

২. সমস্যা সমাধান (Problem Solving)

 

  • জটিল পরিস্থিতি বোঝা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া AI-এর চেয়ে মানুষের হাতে।

  • এই দক্ষতা উন্নত করুন।

 

৩. মানবিক স্পর্শ (Human Touch)

 

  • মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, বোঝাপড়া, সহানুভূতি—এগুলো AI এখনো সম্পূর্ণ অনুকরণ করতে পারে না।

  • এই স্কিলগুলো বিকাশ করুন।

 

৪. সফট স্কিলস ও নেতৃত্ব (Soft Skills & Leadership)

 

  • টিম ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিকেশন, এবং নেতৃত্বের কাজ AI দিয়ে করা যায় না।

  • এগুলো শিখে নিজেকে আলাদা করুন।

 

📚 লাইফটাইম লার্নিং—অর্থাৎ সারাজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা

 

  • শুধু একবার কিছু শেখা নয়, বরং নিয়মিত নিজেকে আপডেট করতে হবে

  • নতুন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, ট্রেন্ড জানতে আগ্রহী থাকতে হবে

  • কোর্স, ওয়েবিনার, টিউটোরিয়াল থেকে শিখতে থাকা এখন জীবনের অপরিহার্য অংশ

 

🎯 ছোট থেকে শুরু করুন, বড় বদল আসবে

 

  • প্রতিদিন অল্প একটু AI টুল ব্যবহার করে অভ্যস্ত হোন

  • নিজের কাজের ক্ষেত্রে AI কীভাবে সাহায্য করতে পারে, সেটা খুঁজে বের করুন

  • নতুন স্কিল শেখার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করুন

 

ভয়কে পেছনে ফেলে, সামনের দিকে এগোতেই হবে। AI-কে শত্রু নয়, ক্ষমতাবর্ধক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করুন। সেই শক্তি নিয়ে আপনার ক্যারিয়ার ও জীবনকে উন্নত করুন।

 

৬. উপসংহার: বদলাও না, থেমে যাও না!

 

আগামী দশক প্রযুক্তিতে আসবে এক দারুণ রূপান্তর—AI, অটোমেশন, 6G, মেটাভার্স সব মিলিয়ে আমাদের জীবন বদলে দেবে। চাকরি যাবে কিছু, আসবে নতুন কাজ; ভয় আসবে, তবে সুযোগও থাকবে অসীম।

তবে একটাই সত্যি — পরিবর্তন অবধারিত। যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সফল হবে। যারা ভয় পেয়ে থেমে থাকবে, তারা পিছিয়ে যাবে।

 

তাই আজ থেকেই তৈরি হতে হবে—

 

  • নতুন দক্ষতা শিখে

  • সচেতনতা ও নৈতিকতা বজায় রেখে

  • AI ও প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে

 

আমাদের সামনে এখন এক প্রশ্ন:

 

“আপনি কী ভাবছেন? আগামী ১০ বছর আপনি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন?”

 

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
এইচডি ১৩৭০১০ বি গ্রহ
পৃথিবীর সমতুল্য নতুন গ্রহ প্রকাশ্যে আনলো নাসা

মহাবিশ্বে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে অনুসন্ধানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে নাসা। সংস্থাটি সম্প্রতি এমন এক গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যা গঠনগতভাবে আমাদের পৃথিবীর সঙ্গে বিস্ময়কর মিল রাখে। গ্রহটি, ‘এইচডি ১৩৭০১০ বি’ নামক, পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং বিজ্ঞানীদের মতে, এটি তার নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলের প্রান্তে অবস্থান করছে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহটিতে তরল পানির অস্তিত্ব ও জীবনধারণের জন্য উপযোগী বায়ুমণ্ডলের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও মূল নক্ষত্র সূর্যের মতো হলেও অনেক বেশি শীতল ও কম আলো প্রবাহিত করে, ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের কে২ মিশনের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে। নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আলোর সামান্য পরিবর্তনের পর্যবেক্ষণেই এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা আরও জানিয়েছেন, গ্রহটির অরবিটাল পিরিয়ড মাত্র ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা, যেখানে পৃথিবী ৩৬৫ দিনে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। নাসার গবেষকরা আশা করছেন, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার কিওপস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে গ্রহটির প্রকৃতি এবং জীবনধারণের সক্ষমতা নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান: বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিপদের আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক

স্কুলে চালু হচ্ছে রোবটিক্স শিক্ষা, প্রস্তুত বিশেষ পাঠ্যক্রম

স্টার্টআপে ঝুঁকছে তরুণ উদ্যোক্তারা, বাড়ছে বিনিয়োগের সুযোগ

দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা শুরুর আগ্রহ বিগত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্টার্টআপ খাতে প্রযুক্তি, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগগুলো এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির পেছনে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কাজ করেছে।   তরুণদের চোখে সম্ভাবনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী রায়হান মৃধা সম্প্রতি “EduTrack” নামে একটি এডটেক স্টার্টআপ চালু করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ ও ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। শুরুতে ঝুঁকি ছিল, তবে এখন মাসে ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পাচ্ছি।” এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা সদ্য পাস করা তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করছেন।   বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোও এখন বাংলাদেশি স্টার্টআপে অর্থ ঢালতে আগ্রহী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১২টি স্টার্টআপ প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে। উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘BD Venture’–এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের ধারণা অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের হয়, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও পুঁজি। এখন সেই সুযোগ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে।”   সরকারি উদ্যোগ ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে আইসিটি বিভাগের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি উদ্যোগে প্রাথমিক অর্থায়ন করেছে। একইসঙ্গে রয়েছে উদ্যোক্তা হাব, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির সুযোগ।

জানিফ হাসান জুন ৫, ২০২৫ 0

এআই প্রযুক্তি: কি কাজ হারাবে মানুষ, আর কোন কাজে হবে সহায়ক?

AI আসছে, চাকরি যাচ্ছে? বাস্তবতা ও ভয়ের মাঝে সত্যটা কোথায়

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ: কেমন হতে পারে আগামী ১০ বছর?

0 Comments