অর্থনীতি

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জুন ২৮, ২০২৫
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে টানা অস্থিরতা। সূচকের উত্থান-পতন, লেনদেনের নিম্নগতি এবং কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে হঠাৎ দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। অনেকেই দিনশেষে লোকসান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, আবার কেউ কেউ বিনিয়োগ না করেই ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে রয়েছেন।

অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থনীতির সামগ্রিক চাপ, বিশেষ করে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ খাতে ঝুঁকছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে থাকছেন। অন্যদিকে, কিছু কোম্পানির দুর্বল মৌলভিত্তি এবং গুজবের ভিত্তিতে দর বাড়া কিংবা কমা — বাজারকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে উঠেছে কঠিন। বিশেষ করে যারা স্বল্প অভিজ্ঞ, তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সময়ে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের।

প্রথমত, যেসব কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক, যাদের ব্যবসার ভিত্তি শক্ত এবং ডিভিডেন্ড প্রদানে নিয়মিত, সেসব কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই সময় ‘শেয়ার কম দামে কিনে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা’ কৌশল বেশ কার্যকর হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, গুজব বা বাজারে হঠাৎ ওঠা কোনো খবরের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় কিছু 'পাম্প অ্যান্ড ডাম্প' স্টকে আকর্ষণীয় মুনাফার লোভ দেখিয়ে ফাঁদ পাতা হয়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলে।

তৃতীয়ত, কারও যদি অর্থনৈতিক সংকট থাকে বা ধার করা অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনার চিন্তা থাকে, তাহলে আপাতত বাজারে প্রবেশ না করাই উত্তম। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এছাড়া প্রযুক্তি ও নিউজভিত্তিক এনালাইসিসের পাশাপাশি মৌলিক বিশ্লেষণ (ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস) করা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ চাইলে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নিতে পারে বা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর পরামর্শও গ্রহণ করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি পতনের পরই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়টা ধরতে পারে কেবল ধৈর্যশীল ও সচেতন বিনিয়োগকারীরা। তাই আতঙ্ক নয়, জ্ঞান ও কৌশলের মাধ্যমে বিনিয়োগ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফের ঊর্ধ্বগতি সোনার দামে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজারে সোনার দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে আউন্সপ্রতি দাম ৫,০৪১.৮০ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দামের তুলনায় ২.৩৩ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আউন্সপ্রতি ৫,০০০ ডলার সোনার জন্য একটি ‘মানসিক সীমানা’ হিসেবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক বাজারের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন সোনার দামের দ্রুত ওঠা-নামার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে সোনার দাম ভবিষ্যতে ৬,০০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেটের বিশ্লেষকরা অনুমান করেছেন, চলতি বছর সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭,১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিপ্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

আবারো ১৯৬.৫ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের নতুন ইতিহাস, আউন্সপ্রতি দাম ছাড়াল ৫,২০০ ডলার

আহসান হাবিব মনসুর
দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রে বিপন্ন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত: গভর্নর মনসুর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর দেশীয় ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দুরবস্থা ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবের কারণে ২০–২৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। বর্তমানে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যধিক, তাই বাস্তবতার ভিত্তিতে মাত্র ১০–১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট হবে। তিনি আরও জানান, খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে আনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে রেশনালাইজেশন করা সরকারের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক রেজ্যুলিউশন ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে ৩০–৪০ হাজার কোটি টাকা জমা রাখা হবে। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে। গভর্নর আশ্বাস দেন, মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব। তবে সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি না হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফ মোশারফ হোসেন এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তারা সবাই ব্যাংকিং খাতের সংকট ও প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0

জনতা ব্যাংকের ৭০ শতাংশেরও বেশি ঋণ খেলাপি

ছবি: সংগৃহীত

ডিসেম্বরে দেশে এলো ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, শীর্ষে সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি টাকার আজকের আন্তর্জাতিক বিনিময় হার

ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

ডলারের দাম বাড়ার ফলে বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি খাতে দেখা দিচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে আমদানিকারকরা পড়ছেন চাপের মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারীরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। আমদানি খাতে ডলারের দর বাড়ায় বিদেশ থেকে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল, কাঁচামাল, ওষুধের উপাদান এবং প্রযুক্তিপণ্য—এসব আমদানিতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে ভুগছে, ফলে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে এবং অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে — পণ্যের দাম বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলার মূল্য বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন। এতে তাদের আয় কিছুটা বাড়ছে, যা রপ্তানি খাতকে কিছুটা চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ডলারের দরবৃদ্ধি একটি প্রণোদনার মতো কাজ করছে। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে — আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক সময় অর্ডারের মূল্য সমন্বয় করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত লাভ সবসময় নিশ্চিত হয় না। রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্যও ডলারের দাম বাড়া স্বস্তির খবর। প্রবাসীরা এখন প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন, ফলে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, যদিও আমদানি ব্যয় এখনও বেশি থাকায় চাপে রয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বা managed floating system এর মাধ্যমে ডলারের বাজারে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আমদানিকারকদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি মূল্য চুক্তি ও বিকল্প উৎস নির্ধারণ করা। রপ্তানিকারকদের বাজার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন দক্ষতায় নজর দেওয়া দরকার। একইসাথে সরকারের উচিত ডলার সংকট মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমদানিনির্ভর শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা, সুচিন্তিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে টেকসই করা।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

0 Comments