শিক্ষা

ছাত্র জীবনে টাইম ম্যানেজমেন্ট: সফলতার চাবিকাঠি

আয়ান তাহরিম জুন ২৬, ২০২৫ 0

সময় হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, বিশেষ করে ছাত্রজীবনে। পড়াশোনা, বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, এবং নিজের শখের কাজ—সবকিছুর জন্যই সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা খুব জরুরি। কিন্তু এই ব্যস্ত জীবনের মাঝে অনেক সময় আমরা অনুভব করি, সময় যেন ঠিক মতো আমাদের পাশে থাকে না, সবকিছু করার জন্য সময় কমে যায়।

ছাত্রজীবন মানেই চ্যালেঞ্জের সময়। পরীক্ষা, প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাসের বাইরে নানা কার্যকলাপ—এসবের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে না পারলে সময় যেন হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে অনেকেই পড়াশোনায় মনোযোগ হারায়, চাপ বেড়ে যায়, আর স্বপ্নের সফলতা দূরে সরে যায়।

টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় পরিচালনার গুরুত্ব এখানেই। যদি আমরা আমাদের প্রতিদিনের কাজগুলো পরিকল্পিতভাবে করতে না শিখি, তবে সময়ের অপচয় হয়ে পড়বে, আর এর ফলে হতাশা, দেরি, এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফল খারাপ হতে পারে।

এই ব্লগে আমি তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি সহজ কিছু টিপস ও কৌশল যা তোমার সময়কে আরও সুশৃঙ্খল করতে সাহায্য করবে। আমরা আলোচনা করবো কীভাবে ছোট ছোট পরিকল্পনা দিয়ে মনোযোগ বাড়ানো যায়, সময় বাঁচানো যায়, এবং পড়াশোনায় সফল হওয়া যায়।

তাই চল, আজ থেকেই শেখা শুরু করি—কিভাবে তোমার ছাত্রজীবনকে আরো ফলপ্রসূ ও আনন্দময় করা যায় সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে।

 

২. টাইম ম্যানেজমেন্ট কি?

 

টাইম ম্যানেজমেন্ট মানে হলো, আমাদের হাতে থাকা সময়কে এমনভাবে পরিকল্পনা ও ভাগ করা, যেন আমরা প্রয়োজনীয় কাজগুলো সময়মতো শেষ করতে পারি এবং অপ্রয়োজনীয় সময় অপচয় এড়িয়ে যেতে পারি।

সহজভাবে বললে—"ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করা"—এটাই সময় ব্যবস্থাপনার মূলমন্ত্র।

 

🎯 কেন এটা ছাত্রদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

 

ছাত্রজীবনেই ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে ওঠে। এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

 

  • পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়

  • নিয়মিত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট থাকে

  • পাশাপাশি ঘুম, বিশ্রাম, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, নিজের শখের দিকেও নজর দিতে হয়

 

যদি সময় ঠিকভাবে ম্যানেজ না করা যায়—

 

  • পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া

  • মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়া

  • রাত জেগে পড়া, ঘুম কম হওয়া

  • আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা

 

👉 অথচ সঠিক পরিকল্পনায় প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই যথেষ্ট—শুধু জানতে হবে কোন সময় কোন কাজটা সবচেয়ে দরকারি।

 

🗂️ সময়ের পরিকল্পনা ও প্রাধান্য নির্ধারণের গুরুত্ব

 

সব কাজ একসাথে করা যায় না। তাই প্রয়োজন কাজগুলোকে প্রাধান্য (Priority) অনুযায়ী সাজানো।
এখানে সময় ব্যবস্থাপনার দুটি মূল বিষয়:

 

  1. প্ল্যানিং (Planning):

    • প্রতিদিন বা সাপ্তাহিকভাবে নিজের সময়ের একটা পরিকল্পনা করা

    • কখন পড়বে, কখন বিশ্রাম নেবে, সেটার একটা রুটিন তৈরি করা

 

  1. প্রায়োরিটাইজিং (Prioritizing):

    • কোন কাজ এখন করতেই হবে?

    • কোনটা একটু দেরি হলেও চলবে?

    • কোনটা একেবারে বাদ দেওয়া যায়?

 

🎯 উদাহরণ:


পরের দিন পরীক্ষা, আর তোমার কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ আসলো—এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করাটা কি জরুরি, নাকি রিভিশন নেওয়া?

 

👉 এই বেছে নেওয়ার বুদ্ধিমত্তাটাই সময় ব্যবস্থাপনার আসল শক্তি।


টাইম ম্যানেজমেন্ট মানে নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ। আর ছাত্রজীবনে যদি এই স্কিলটা শিখে ফেলা যায়, তাহলে পরবর্তী জীবনেও সফলতার পথ সহজ হয়ে যায়।

 

৩. প্রধান সমস্যা: সময়ের অপচয় কেন হয়?

 

ছাত্রজীবনে সময়ের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অসচেতনতা—আমরা বুঝতেই পারি না কখন সময়টা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। অথচ একেকটা দিন, সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে গেলে বোঝা যায়, আসলে কিছুই ঠিকঠাক হয়নি। তাহলে কী কারণে সময় অপচয় হয়?

 

💤 ১. টালবাহানা বা Procrastination

 

“আচ্ছা, পরে করব…” – এই কথাটাই সময় নষ্টের প্রথম ধাপ।
শুরুটা ঠিক সময়ে না করতে পারলে কাজ জমে যায়, চাপ বাড়ে, আর তখন আর কাজের প্রতি আগ্রহও থাকে না।

 

👉 পরীক্ষার আগের রাতে হঠাৎ সব পড়া মনে পড়া—এই দৃশ্য কি খুব চেনা?

 

📱 ২. অতিরিক্ত মোবাইল/সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি

Facebook, YouTube, Instagram, TikTok — একটু রিল দেখতে গিয়ে ঘণ্টা উধাও।
বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী “বিরতির নাম করে” সোশ্যাল মিডিয়ায় যায়, কিন্তু সেখান থেকে ফেরা আর হয় না।

👉 গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সাধারণ তরুণ প্রতিদিন গড়ে ৩–৪ ঘণ্টা মোবাইলে কাটায়—যেটা সময়ের বিরাট অপচয়।

 

🧭 ৩. অস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনার অভাব

 

“আজকে কী করব?”—এই প্রশ্নের উত্তর না থাকলে দিনটা কোথায় যায়, বোঝাই যায় না।
যাদের পড়াশোনার বা জীবনের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই, তাদের সময় নষ্ট হওয়াটা খুব সহজ।

👉 যেদিনের প্ল্যান থাকে না, সেদিন কাজে কিছুই হয় না—শুধু সময় পার হয়ে যায়।

 

😵 ৪. একসাথে অনেক কিছু করার চেষ্টা (Multitasking)

 

একদিকে পড়া, একদিকে চ্যাট, আবার মাঝে YouTube খুলে রাখা—সব মিলিয়ে কিছুই ঠিকঠাক হয় না।
👉 বারবার মনোযোগ বদলালে কোন কাজই ঠিকমতো শেষ হয় না, আর সময় শুধু ঘুরতেই থাকে।

 

⏰ ৫. বিশ্রামের সময়েও দুশ্চিন্তা বা গিল্টি ফিলিং

 

অনেক সময় ছাত্ররা বিশ্রাম নিচ্ছে, কিন্তু মনে শান্তি নেই—“পড়তে বসিনি”, “সময় নষ্ট করছি” এসব চিন্তায় ঘুরপাক খায়।
👉 এতে বিশ্রাম হয় না, আবার কাজেও ফোকাস আসে না।

 

✅ সমাধান কোথায়?

 

  • সমস্যার ধরন বুঝলেই সমাধান সহজ হয়

  • সময় কোথায় নষ্ট হচ্ছে, সেটা লিখে রাখলে (time tracker দিয়ে) সহজে ধরা পড়ে

  • মূল চ্যালেঞ্জটা খুঁজে বের করে ধাপে ধাপে ঠিক করতে হবে


সময় অপচয়ের মূল কারণগুলো খুব সাধারণ, কিন্তু ভয়ংকর। এগুলো যদি আমরা চিনে নিতে পারি, তাহলে সমাধান খুঁজে ফেলা অনেক সহজ।

 

৪. সফল টাইম ম্যানেজমেন্টের কৌশলসমূহ

 

সময় তো সবার কাছেই সমান—দিনে ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু কেউ সেই ২৪ ঘণ্টায় অসাধারণ কিছু করে, আবার কেউ কিছু না করেই দিনটা শেষ করে ফেলে। পার্থক্যটা কোথায়?
👉 টাইম ম্যানেজমেন্টে।

নিচে কিছু প্রমাণিত এবং বাস্তবসম্মত কৌশল দেওয়া হলো, যেগুলো ছাত্রজীবনে সফল সময় ব্যবস্থার চাবিকাঠি হতে পারে:

 

📋 ১. ডেইলি টু-ডু লিস্ট তৈরি করা

 

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে (বা আগের রাতে) একটা ছোট লিস্ট বানাও:

  • আজ কী কী করব

  • কোনটা বেশি জরুরি

  • কোনটা সময়সাপেক্ষ

✅ লিস্টের কাজগুলো করে করে চেক দিলে মনেও তৃপ্তি আসে!

 

🍅 ২. Pomodoro Technique ব্যবহার করো

পড়াশোনায় ফোকাস বাড়াতে এটা অসাধারণ:

  • ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ

  • ৫ মিনিট বিরতি

  • প্রতি ৪ বার পর ১৫–২০ মিনিট দীর্ঘ বিরতি

👉 এর ফলে মনোযোগ কমে না, আবার ক্লান্তিও জমে না।

 

🧭 ৩. প্রায়োরিটাইজ করো (Prioritization)

সব কাজ সমান জরুরি নয়। তাই—

  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও deadline-আসন্ন কাজ আগে করো

  • ছোট, সহজ কাজ পরে করলেও চলবে

🎯 একটি জনপ্রিয় নিয়ম: Eisenhower Matrix – কাজগুলোকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় (জরুরি/অ-জরুরি × গুরুত্বপূর্ণ/অ-গুরুত্বপূর্ণ)

 

🌱 ৪. “Time Blocking” মেথড প্রয়োগ করো

দিনটাকে ভাগ করো:

  • সকাল ৮–১০: পড়া

  • ১০–১০:৩০: বিশ্রাম

  • ১০:৩০–১২: অ্যাসাইনমেন্ট
    👉 এভাবে সময় আলাদা করে রাখলে মাথায় পরিষ্কার থাকে কখন কী করব।

 

🌿 ৫. বিরতির সময় নির্ধারণ করো

বিরতি নেওয়া মানেই অলসতা না।

  • ৪৫–৫০ মিনিট পর একটু হাঁটাহাঁটি, চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম

  • শরীর/মাথা ফ্রেশ হলে কাজ আরও ভালো হয়

✅ নিয়মিত বিরতি productivity বাড়ায়।

 

📴 ৬. ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন কমাও

  • মোবাইল “Do Not Disturb” বা “Focus Mode” করো

  • ক্লাস/পড়ার সময় সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রাখো

  • নির্দিষ্ট সময়ে “মোবাইল চেক” সেশন রাখো

👉 একটু নিয়ন্ত্রণেই বিশাল সময় বাঁচবে।

 

📱 ৭. টাইম ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করো

টেকনোলজি শুধু সময় নষ্ট করে না, বরং সময় বাঁচাতেও পারে!

  • Todoist – লিস্ট আর রিমাইন্ডার

  • Google Calendar – সময় ব্লকিং

  • Forest / Focus Keeper – মনোযোগ বাড়াতে

 

✅ একান্ত টিপস

  • রাতে ঘুমানোর আগে “কালকের কাজের প্ল্যান” করে ঘুমাও

  • "না" বলতে শিখো—অপ্রয়োজনীয় কাজ/বিপদে না গিয়ে নিজের সময় বাঁচাও

  • সাপ্তাহিক রিভিউ করো—কী করেছ, কী করা হয়নি, কেন হয়নি?


টাইম ম্যানেজমেন্ট কোনো কঠিন জিনিস নয়। বরং একটু সচেতনতা, ছোট কিছু অভ্যাস, আর পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই তুমি তৈরি করতে পারো নিজের সফল ভবিষ্যতের পথ।

 

 

৫. পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ

 

"আমি সফল হতে চাই" — এই কথাটা অনেকেই বলে।
কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, সফলতা আসলে প্ল্যানের ফলাফল। শুধু ইচ্ছা থাকলেই হয় না, দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর লক্ষ্য নির্ধারণ। ঠিক সেখানেই আসে টাইম ম্যানেজমেন্টের মূল শক্তি।

 

🎯 লক্ষ্য (Goal) মানে কী?

লক্ষ্য হলো তোমার গন্তব্য। তুমি কোথায় যেতে চাও, সেটা যদি নিজেই না জানো, তাহলে সময় কীভাবে কাজে লাগাবে?

  • “ভালো রেজাল্ট করব” — এটা একটা সাধারণ ইচ্ছা

  • কিন্তু “এই টার্মে GPA ৪.৫ তোলার জন্য প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা পড়ব”—এটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য

 

✅ SMART Goal পদ্ধতি

লক্ষ্য নির্ধারণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো SMART মডেল।
তোমার লক্ষ্য যেন হয়:

  • S – Specific (নির্দিষ্ট): কী করতে চাও?

  • M – Measurable (পরিমাপযোগ্য): কতটুকু উন্নতি?

  • A – Achievable (বাস্তবসম্মত): করতে পারবে তো?

  • R – Relevant (প্রাসঙ্গিক): তোমার ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত?

  • T – Time-bound (সময়সীমা নির্ধারিত): কতদিনে করতে চাও?

🎯 উদাহরণ:
“পরের ৪ সপ্তাহে গণিতে ৫টা অধ্যায় শেষ করব, প্রতিদিন ২ ঘণ্টা সময় দিয়ে।”
👉 এটা একটা SMART লক্ষ্য।

 

🗂️ কিভাবে পরিকল্পনা করবে?

 

১. বড় লক্ষ্য ভেঙে ছোট করো
বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করলে সেটা সহজে আয়ত্তে আসে।
যেমন: “SSC তে A+” → প্রতিমাসে একটি বিষয় → প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার

 

২. সাপ্তাহিক ও দৈনিক প্ল্যান করো
সপ্তাহের শুরুতে একটা রুপরেখা বানাও—কি কি কাজ শেষ করতে হবে
প্রতিদিন সকালে বা আগের রাতে প্ল্যান সাজাও—কোনটা আগে, কোনটা পরে

 

৩. টাইম ব্লক করো নির্দিষ্ট কাজের জন্য
পড়া, অ্যাসাইনমেন্ট, বিশ্রাম—সবকিছুর জন্য সময় ঠিক করো
যেকোনো কাজে “ঠিক কতক্ষণ সময় দিবে” তা নির্ধারণ করে ফেলো আগেই

 

📌 লক্ষ্য না থাকলে কী হয়?

  • পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে যায়

  • সময় ঠিকঠাক কাজে লাগে না

  • ছোট ছোট distraction-এ মন চলে যায়

  • দিনের শেষে মনে হয় “আজ কিছুই করিনি!”

👉 লক্ষ্য থাকলে প্রতিটা দিন একটা নির্দিষ্ট দিকের দিকে এগোয়।

 

ছাত্রজীবনে পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ মানে ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়া।
তুমি যদি জানো কোথায় যেতে চাও, কীভাবে যাবা, আর সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগাবে—তাহলে সফলতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

৬. মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

 

আজকের যুগে মনোযোগ ধরে রাখা যেন একটা যুদ্ধ!
একদিকে ফোনের নোটিফিকেশন, অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামের রিল, পাশেই ভাই বা বন্ধুর গল্প — এমন পরিস্থিতিতে পড়ার সময় মন বসানোটা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।

কিন্তু মনোযোগ ছাড়া সফল হওয়া সম্ভব নয়।
তাই আসুন জেনে নিই কিছু কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য কৌশল, যা তোমার ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করবে

 

🧘 ১. পড়ার পরিবেশ তৈরি করো

 

✅ নীরব, আলো-বাতাসপূর্ণ, পরিপাটি পরিবেশে পড়ো
✅ টেবিল-চেয়ার থাকলে ভালো — শুয়ে পড়লে ঘুম পাবে
✅ দরকারি জিনিস যেমন বই, পেন, নোট একসাথে রাখো
❌ মোবাইল, টিভি বা অন্যান্য বিভ্রান্তি দূরে রাখো

👉 মন ফোকাস করে তখনই, যখন পরিবেশ মনোযোগবান্ধব হয়।

 

⏳ ২. ছোট সময়ে মনোযোগী হও (Pomodoro Technique)

 

  • ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে পড়ো

  • ৫ মিনিট বিরতি নাও

  • এই চক্র ৪ বার চললে একটা লম্বা বিরতি

✅ এই পদ্ধতিতে ক্লান্তি আসে না, মনোযোগও স্থির থাকে।

 

📱 ৩. মোবাইল নিয়ন্ত্রণে রাখো

 

  • পড়ার সময় ফোন Silent বা Focus Mode রাখো

  • পড়া শেষ হলে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে স্ক্রল করো

  • চাইলেই “Digital Detox” করে কিছুদিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতিও নিতে পারো

👉 ফোনই আজকের সময়ে সবচেয়ে বড় distraction।

 

🧠 ৪. একসাথে একটাই কাজ করো

 

Multitasking করলে একটারও ঠিকভাবে হয় না।
👉 একসাথে পড়া, মেসেজ দেওয়া, গান শোনা — এতে মনোযোগ হারিয়ে যায়।

✅ পড়ার সময় শুধু পড়া, বিশ্রামের সময় পুরো বিশ্রাম।

 

🌿 ৫. নিয়মিত মেডিটেশন বা ব্রেথিং এক্সারসাইজ

 

দৈনিক ৫–১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাসের অনুশীলন করলে:

  • মাথা ঠান্ডা থাকে

  • মন শান্ত হয়

  • মনোযোগ বাড়ে

👉 মেডিটেশন এখন বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিতভাবে ফোকাস বাড়ায়।

 

📘 ৬. মনোযোগ ধরে রাখতে ছোট লক্ষ্য ঠিক করো

 

“আজ পুরো বই পড়ব” — এটা শুনতেই ক্লান্ত লাগে।
👉 বরং বলো, “আগামী ৩০ মিনিট শুধু এই চ্যাপ্টারটা শেষ করব।”

✅ ছোট লক্ষ্য হলে মন বসানো সহজ হয়, এবং সফল হলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

 

📅 ৭. নিয়মিত রুটিন মেনে চলো

 

প্রতিদিন যদি নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসো, তাহলে মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
👉 এক সময় নিজে থেকেই মন বসে যাবে।

 

মনোযোগ বাড়ানো কোনো ম্যাজিক নয়। এটা একটা অভ্যাস, যা চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
সঠিক পরিবেশ, পরিষ্কার লক্ষ্য, নির্দিষ্ট সময় এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ — এই চারটি জিনিসই ছাত্রজীবনের মনোযোগ ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।

 

তুমি যদি সত্যি সময়টাকে কাজে লাগাতে চাও, তবে আজ থেকেই শুরু করো—একটু একটু করে মনোযোগী হয়ে উঠো।
👉 কারণ, মনোযোগ মানেই প্রগতি।

 

৭. প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া

 

আজকাল আমরা প্রায়ই শুনি, “মোবাইল সব সময় নষ্ট করে দেয়”, “টেকনোলজির কারণে মনোযোগ হারিয়ে ফেলি” — এসব কথা আংশিক সত্য হলেও প্রযুক্তি আসলে নষ্টও করে, আবার ঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনেক গড়ে তোলে।

ছাত্রজীবনে সময় বাঁচাতে, কাজের গতি বাড়াতে, এমনকি মনোযোগ ধরে রাখতে অনেক দারুণ টুলস রয়েছে—শুধু জানতে আর ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়।

 

📋 ১. টু-ডু লিস্ট ও প্ল্যানিং অ্যাপ

 

Todoist / Google Keep / Notion

  • প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি

  • কাজ শেষ হলে চেক করে আত্মতৃপ্তি

  • Reminder সেট করে সময়মতো কাজের স্মরণ

👉 সময় ম্যানেজমেন্টের প্রথম ধাপই হলো—“কোন কাজটা করব, কবে করব” সেটা পরিষ্কার থাকা।

 

🧭 ২. ক্যালেন্ডার ও টাইম ব্লকিং টুল

 

Google Calendar / Microsoft Outlook

  • পুরো সপ্তাহ বা মাসের পরিকল্পনা

  • একেক সময় একেক কাজ ব্লক করে রাখা

  • এক ক্লিকে দেখে ফেলা — কোন দিন কী আছে

✅ রুটিন মেনে চলতে চাইলে এসব টুল অমূল্য।

 

⏱️ ৩. ফোকাস বাড়ানোর অ্যাপ

 

Forest / Focus To-Do / Brain.fm

  • নির্দিষ্ট সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা

  • পড়ার সময় ফোনে ঢুকলেই গাছ ‘মরে যায়’ – এমন ফিচারে মোটিভেশন

  • মনোযোগ বাড়াতে বিশেষ মিউজিক বা থেরাপি সাউন্ড

👉 যারা সহজে ডিস্ট্র্যাক্টেড হন, তাদের জন্য দারুণ কার্যকর।

 

📊 ৪. স্টাডি ট্র্যাকার ও প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ

 

Toggl / Clockify / My Study Life

  • কোন কাজে কত সময় ব্যয় হচ্ছে, সেটার হিসাব রাখা

  • প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক রিপোর্ট দেখা

  • কোন বিষয় বেশি সময় নিচ্ছে, বুঝে নিয়ে সেটার পরিকল্পনা ঠিক করা

🎯 অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না সময় কোথায় যাচ্ছে—এই অ্যাপগুলো সেটা ধরিয়ে দেয়।

 

📚 ৫. লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন কোর্স

 

Coursera / YouTube / Khan Academy / 10 Minute School

  • নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য ক্লাস বা টিউটোরিয়াল দেখা

  • যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে শেখা

  • সময়ের অপচয় বাদ দিয়ে নিয়মিত শেখার অভ্যাস

✅ এখন লাইব্রেরি না গিয়েও হাতের ফোনে “জ্ঞান” পাওয়া যায়—শুধু ইচ্ছা থাকা দরকার।

 

✅ টিপস: প্রযুক্তি যেন শত্রু না হয়ে বন্ধু হয়

  • “ব্যবহার” করো, কিন্তু “আসক্ত” হয়ো না

  • অ্যাপস ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করে রাখো

  • নোটিফিকেশন বন্ধ রাখো যখন ফোকাস দরকার

 

প্রযুক্তিকে যদি তুমি কেবল বিনোদনের মাধ্যম মনে করো, তাহলে সেটা সময় নষ্ট করবে।
কিন্তু যদি এটাকে কাজে লাগাও — তাহলে এটা হতে পারে তোমার সবচেয়ে বড় সহযোগী ও প্রডাক্টিভিটির সহায়ক।

ছাত্রজীবনে যাদের হাতে আছে স্মার্টফোন, তাদের হাতে আছে একধরনের “বুদ্ধিমান সহকারী” — এখন শুধু শেখা দরকার, কীভাবে তাকে কাজে লাগাবে!

 

 

৮. সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

 

অনেকেই টাইম ম্যানেজমেন্টের কথা শোনার পর রুটিন বানায়, অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্ল্যান করে—কিন্তু কয়েকদিন পর সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। কেন এমন হয়?

👉 কারণ, আমরা কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলি, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকে ভেঙে দেয়।

চলো জেনে নিই সেগুলো কী এবং কীভাবে এগুলো থেকে সাবধান থাকা যায়।

 

❌ ১. “সব একসাথে করব” ভাবা (Overplanning)

দিনের সব ঘন্টা প্ল্যান দিয়ে ভর্তি করে ফেলা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনই দমবন্ধও হয়ে যায়।
👉 সব কাজের জন্য সময় রাখা জরুরি, কিন্তু সেই সময় যেন বাস্তবসম্মত হয়।

✅ 🔹 টিপ: প্রতিদিন ৩–৫টা মূল কাজ ঠিক করো। বেশি নয়।

 

❌ ২. বিশ্রামের সময় বাদ দেওয়া

অনেকে মনে করে, “যত বেশি পড়ব, তত ভালো রেজাল্ট আসবে।”
কিন্তু মাথা ও শরীরকে বিশ্রাম না দিলে কাজের মান কমে যায়, একসময় ক্লান্তি ও বিরক্তি চলে আসে।

✅ 🔹 টিপ: প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম এবং প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট বিরতি রাখো।

 

❌ ৩. লক্ষ্য না ঠিক করে দৌড়ানো

লক্ষ্যহীনভাবে শুধু পড়তে বসা টাইম ম্যানেজমেন্ট নয়।
👉 “কি পড়ছি, কেন পড়ছি”—এই প্রশ্নের উত্তর না থাকলে সময় অপচয় হবেই।

✅ 🔹 টিপ: প্রতিটি কাজের পিছনে একটা উদ্দেশ্য রাখো।

 

❌ ৪. “না” বলতে না পারা

বন্ধুদের ডাক, অপ্রয়োজনীয় টিউশনি, বা পারিবারিক চাপ—সবকিছুই মেনে নিতে গেলে নিজের সময় কোথায় থাকবে?

✅ 🔹 টিপ: তোমার সময় তোমার সম্পদ। অপ্রয়োজনীয় কাজ politely না বলা শিখো।

 

❌ ৫. মোবাইলকে “দাঁতের ব্রাশ” বানিয়ে ফেলা

সকালে উঠেই ফোন, ঘুমাতে যাওয়ার আগেও ফোন। এতে সময় নষ্ট হয় শুধু না, মনোযোগও হারিয়ে যায়।

✅ 🔹 টিপ: সকালে অন্তত ৩০ মিনিট ফোন ছাড়াই থাকো।

 

❌ ৬. ফাঁকা পরিকল্পনা করে ফেলা

প্ল্যান বানানোই সব কিছু না। প্ল্যান ফলো করাই আসল!
👉 প্ল্যান লিখে রেখে না মানলে কোনো লাভ নেই।

✅ 🔹 টিপ: রাতের শেষে রিভিউ করো—কী করলে, কী বাকি, কেন হয়নি।

 

⚠️ সতর্কতা

  • টাইম ম্যানেজমেন্ট শেখা মানেই প্রতিদিন একেবারে পারফেক্ট হওয়া নয়

  • ভুল হবে, গাফিলতি হবে—কিন্তু হাল ছাড়া যাবে না

  • নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়েই সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হওয়া সম্ভব

 

ছাত্রজীবনে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—নিজের সময়কে সম্মান করা।
তুমি যদি এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে সচেতনভাবে সময় কাজে লাগাতে পারো, তাহলে সফলতা শুধু সময়ের ব্যাপার।

👉 মনে রেখো, "শুধু কাজের মানুষ হওয়া নয়, কাজের সময় মানুষ হওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ!"

 

 

৯. সফল ছাত্রদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন

 

টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে যত থিওরি পড়ি না কেন, বাস্তব জীবনের গল্পগুলোই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
তাদের দেখলেই বোঝা যায়—সফলতা আসলে কোনো জাদু নয়, বরং সময়কে ঠিকঠাকভাবে ব্যবহার করার ফল।

চলো জেনে নিই এমন ৩ জন শিক্ষার্থীর বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের টাইম ম্যানেজমেন্ট বদলে দিয়েছে তাদের জীবন।

 

🧑‍🎓 গল্প ১: ফারহানা, মেডিকেল স্টুডেন্ট – "ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা রুটিন"

 

ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী ফারহানা প্রতিদিন মাত্র ৬ ঘণ্টা পড়তেন, কিন্তু সময়ের এত ভালো ব্যবস্থাপনা ছিল যে তার সব সাবজেক্টে রিভিশন হতো সময়মতো।

  • প্রতিদিন সকাল ৮টায় পড়া শুরু

  • Pomodoro টেকনিকে ২৫+৫ স্টাডি সেশন

  • সন্ধ্যায় ৩০ মিনিট ফেসবুক/ইউটিউব — guilt-free!

 

🎯 ফলাফল: পরীক্ষার আগের রাতেও সে চাপমুক্ত থাকত, আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে।

 

🧑‍💻 গল্প ২: সাদমান, HSC ছাত্র ও ফ্রিল্যান্সার – “সময় মানেই টাকা”

 

সাদমান পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করে আয় করে। সে জানে, “সময়টা যদি না ম্যানেজ করি, পড়াও যাবে, আয়ও যাবে।”

  • রাত ৮টা–১০টা: কেবল পড়া

  • রাত ১০টা–১২টা: ক্লায়েন্টের কাজ

  • দিনে ১৫ মিনিট সময় ব্লক করে প্রজেক্ট ম্যানেজ করে

 

🎯 ফলাফল: GPA ৫.০০ পেয়েছে, এবং মাসে ১০–১২ হাজার টাকা ইনকাম!

 

👩‍🏫 গল্প ৩: নুসরাত, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী – “না বলতে শিখে জীবন বদলেছে”

 

নুসরাত আগে বন্ধুদের ডাক না ফেলতে পারত না—ফলে প্ল্যান করে কিছুই হতো না।
একসময় সে বুঝল, "না" বলা মানেই খারাপ হওয়া না, বরং নিজের লক্ষ্য রক্ষা করা।

  • অপ্রয়োজনীয় আড্ডা কমিয়ে দিয়েছে

  • সাপ্তাহিক রুটিন ফলো করে

  • রবিবার রাতে সব সপ্তাহের প্ল্যান বানায়

🎯 ফলাফল: ক্লাসে রেগুলার, CGPA বেড়েছে, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গেও সময় দিতে পারছে।

 

🧠 আমরা কী শিখলাম?

 

এই গল্পগুলো থেকে পরিষ্কার ৩টি বিষয় শেখা যায়:

  1. সময় থাকেই—শুধু ঠিকমতো ব্যবহার করাটা শেখা দরকার

  2. "না" বলতে শেখা মানে নিজেকে সময় দেওয়া

  3. ফাঁকা সময় মানেই অলসতা নয়, সেটা কাজে লাগালে ভবিষ্যত বদলায়

 

📌 ছোট্ট চ্যালেঞ্জ তোমার জন্য

 

আজকেই ১টা রিয়েল প্ল্যান বানাও—

  • আগামী ৩ দিনে কী কী করব?

  • কোন সময় কোন কাজ করব?

  • কী বাদ দিবো, কীতে মনোযোগ বাড়াবো?

 

👉 মনে রেখো, তোমার প্রতিটি মিনিটই একেকটা বিনিয়োগ।

 

উপসংহার

 

সময় কারও জন্য থামে না।
চাই তুমি একজন স্কুলছাত্র হও, কলেজ পড়ুয়া বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—তোমার হাতে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই আছে।
প্রশ্ন হলো: তুমি সেটা কীভাবে ব্যবহার করছ?

 

এই ব্লগের মাধ্যমে আমরা দেখেছি—

✅ সময়ের গুরুত্ব কতটা
✅ কীভাবে সময় অপচয় হয়
✅ কোন কোন কৌশলে সফলভাবে সময়কে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়
✅ প্রযুক্তিকে বন্ধু করে ব্যবহার করা যায়
✅ আর ভুলগুলো চিনে সতর্ক থাকা যায়

তোমার আশপাশেই এমন অনেক সফল ছাত্রছাত্রী আছেন যারা সময়ের দাম বুঝে আজ নিজেদের জীবন গড়ে তুলছে। তুমি কেন পারবে না?

 

🔑 মনে রাখো:

"টাইম ম্যানেজমেন্ট মানে শুধু রুটিন না, এটা নিজেকে গড়ার প্রতিজ্ঞা।"

তুমি যদি আজ থেকেই একটু একটু করে সচেতন হও—
📅 ছোট ছোট প্ল্যান করো
🕒 সময়মতো কাজ শেষ করো
📵 অপ্রয়োজনীয় distraction এড়িয়ে চলো
তাহলে সফলতা তোমার খুব বেশি দূরে না।

 

🎁 লেখাটি পড়ে এখন তোমার করণীয়:

 

📌 একটা খাতা বা অ্যাপ নিয়ে শুরু করো
📌 আগামী ৭ দিনের জন্য সময় ব্যবস্থার একটা রুপরেখা বানাও
📌 নিজেই নিজের পরিবর্তনের সাক্ষী হও

 

📣 পাঠকের প্রতি প্রশ্ন:

 

তুমি কীভাবে সময় ম্যানেজ করো?
তোমার কোন কৌশল সবচেয়ে ভালো কাজ করে?
নাকি টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এখনো লড়াই করছো?

👉 নিচে মন্তব্যে জানাও — অথবা বন্ধুদের সঙ্গে লেখাটি শেয়ার করো, যারা এই সমস্যায় ভুগছে।


সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই একজন সাধারণ ছাত্রকে অসাধারণ করে তোলে।
আজই শুরু করো — কারণ সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

জনপ্রিয় পোস্ট
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

ইউরোপে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন: মৃতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন

ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।

নিউইয়র্কের সম্ভাব্য মেয়র মুসলিম তরুণ মামদানি

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একজন তরুণ, মুসলিম, প্রগতিশীল নেতা—জোহারান মামদানি। তার বয়স মাত্র ৩৩ বছর, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি নিউইয়র্কবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন সাহসী বক্তব্য, সমাজকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং ভিন্নধারার রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে। অনেকেই বলছেন, নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে পারেন এই মুসলিম তরুণ।   মামদানির পরিচয় জোহারান মামদানি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-উগান্ডীয় বংশোদ্ভূত। তার মা বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার, আর বাবা মোহাম্মদ মামদানি একজন নামকরা শিক্ষাবিদ। মামদানি শৈশবেই উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কেই বড় হন। তিনি বর্তমানে অ্যাস্টোরিয়াতে বসবাস করেন এবং পেশাগতভাবে একজন হাউজিং কাউন্সেলর থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন।   রাজনীতিতে প্রবেশ ২০২০ সালে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের সমর্থনে কুইন্স জেলার ৩৬ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তিনি নিজেকে "জনগণের প্রতিনিধি" হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি গৃহহীন, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। তার মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফ্রি পাবলিক বাস সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা   সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জোহারান মামদানি এখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের জন্য বিবেচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। প্রথাগত রাজনীতিবিদদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ও অভিবাসীদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন, তবে এটি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে।   মুসলিম পরিচয় এবং নেতৃত্ব একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে মামদানি কখনও নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকাননি। বরং তিনি ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজসেবা ও ন্যায়ের কথা বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। তিনি ‘Students for Justice in Palestine’ নামক সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও ন্যায়ের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।   উপসংহার জোহারান মামদানি শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। একদিকে তার তরুণ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নতুন দিশা দিতে পারে। নিউইয়র্কবাসীর আশাবাদ—এই তরুণ যদি মেয়র হন, তবে নগরবাসীর প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা এক নতুন ইতিহাস দেখতে পারি।

শিক্ষা

আরও দেখুন
সাহিত্যপ্রেমীদের জন্যে পর্দা উঠলো ময়মনসিংহ বিভাগীয় বইমেলার

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বইমেলা-২০২৫ শুরু হলো ১২ ডিসেম্বর । নগরীর টাউন হল প্রাঙ্গণে শুক্রবার বিকালে উদ্বোধনী ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে এ মেলার পর্দা উঠলো। মেলাটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভাগীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত ১২ ডিসেম্বর হতে শুরু হওয়া ০৯ দিনব্যাপী ময়মনসিংহ বিভাগীয় বইমেলাটি চলবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলায় ১০ সরকারি ও ৬২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৭২ টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। বইমেলায় প্রতিদিন বিকাল ৩ টা হতে ৫ টা পর্যন্ত আলোচনা সভা, সেমিনার, উপস্থিত বক্তৃতা, কচিকাঁচার উৎসব, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকাল ১০ টা হতে মেলা অনুষ্ঠিত হবে।উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি'র বক্তৃতায় কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) বলেন, এ বইমেলা নতুনদের অনুপ্রাণিত করবে। মেলার মাধ্যমে যে বই হাতে পাবে তা বাংলাভাষাকে জীবন্ত রাখবে। যখন সবচেয়ে বেশি দরকার হবে বই এগিয়ে আসবে। জড় বস্তু বইয়ের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাবেন। মেলা শুধু বইয়ের স্তুপ নয়,এটা কথোপকথনের জায়গাও বটে।তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী এই ময়মনসিংহ অঞ্চল। এ জায়গাতে কালচারাল হাব গড়ে তুলতে চাই। তাতে করে সাংস্কৃতিক চর্চায় আরো সমৃদ্ধ হবে এ অঞ্চল।বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ ফারাহ শাম্মী এনডিসি এর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাঃ খালিদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতাম্মেল ইসলাম ও শহীদ সাগরের গর্বিত পিতা মোঃ আসাদুজ্জামান প্রমুখ। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার স্বাগত বক্তৃতা করেন।বক্তৃতায় অতিথিবৃন্দ বলেন, পাঠক সমাজ সৃষ্টি করতেই বইমেলার মূল উদ্দেশ্য। এতে নতুন পাঠক সৃষ্টি হয়। মেলায় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অনেক নতুন বই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে যায়।একটি বই অন্য আরেকটি বইয়ের কাছে নিয়ে যায়। বইমেলায় আসতে আপনারা সকলকে উদ্বুদ্ধ করবেন। আমরা যতটুকু শিখেছি বই থেকেই শিখেছি। ডিজিটাল যুগে বই কম টানে কিন্তু মুদ্রিত বইয়ের চাইতে আনন্দ উপভোগ করা খুব কমই হয়।পাঠক ও লেখকের মাঝে মিথষ্ক্রিয়া ঘটায় বইমেলা। সমাজে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলাতে বই খুবই প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। বই হতে পারে আমাদের উপহারের মাধ্যম।সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বৈষম্যহীন আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।সৃজনশীলতা ও চিন্তার বিকাশ ঘটায় বই। তরুণদের যুক্তিবাদী করে তুলে বই। শিশুদের জন্য যেন খেলনার চাইতেও প্রিয় এবং প্রবীণদের জন্য যেন সঙ্গী হয় এই বই, এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যাপকগণ, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সিনিয়র শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থীবৃন্দ, কবি, লেখক ও প্রকাশকবৃন্দ, সাহিত্যপ্রেমী নাগরিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।অতিথিবৃন্দ কর্তৃক বইয়ের স্টল পরিদর্শনের মাধ্যমে মেলাটির বর্ণিল আয়োজন আরো সমৃদ্ধ লাভ করে। শুরুর দিনই মেলাতে বইপ্রিয় মানুষের উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়।

Admin ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ 0

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট: এক শিক্ষকেই সামলাচ্ছেন একাধিক শ্রেণি

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

অনলাইন ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে, বাড়ছে শিখন ঘাটতি

ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি না পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার বাড়ছে

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি প্রদান দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক স্কুলেই শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনুপস্থিতির হার দিন দিন বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি না পাওয়া এক ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, অনেক স্কুলেই বছরের শুরু থেকেই ইউনিফর্ম সরবরাহ হয়নি। আবার উপবৃত্তির টাকা এখনো পৌঁছায়নি শিক্ষার্থীদের হাতে। এতে করে দরিদ্র পরিবারগুলো শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। অনেক অভিভাবকই বলছেন, পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে সন্তানদের ইউনিফর্ম কেনা বা অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সাথে উপবৃত্তির অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কমে গেছে। এতে করে ঝরে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও ইউনিফর্ম একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এই সুবিধা নিয়মিতভাবে না পৌঁছালে তাদের স্কুলে উপস্থিতি ব্যাহত হয়। অনেক সময় দেখা যায়, একই পোশাক বারবার পরার ফলে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং নতুনটি কেনার সামর্থ্য না থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। অন্যদিকে, উপবৃত্তির টাকায় তারা যাতায়াত খরচ, খাতা-কলম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে থাকে। এই অর্থ না পেলে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।   শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনেকে জানিয়েছেন, বাজেট বরাদ্দে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি সরবরাহে দেরি হচ্ছে। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সুবিধা যথাসময়ে পৌঁছে যাবে।   তবে অভিভাবক ও শিক্ষকদের দাবি, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। শিশুদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত রাখার জন্য তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির, তাদের জন্য শিক্ষা যেন বিলাসিতা না হয়ে যায়। সরকারের উচিত বরাদ্দ, বণ্টন ও বাস্তবায়নে আরও জোর দেওয়া, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতভাবে পায়।   এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আরও কমে যেতে পারে এবং জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0

সরকারি স্কুলে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল হাজিরা চালু, নজরদারিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল, চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় আবেদন ও মেধাতালিকা

অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?

অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?

নতুন শিক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
নতুন শিক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

নতুন শিক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে? শিক্ষা হলো একটি জাতির ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও আসে নানা ধরনের পরিবর্তন। ২০২৫ সালে ঘোষিত নতুন শিক্ষানীতি অনেকের নজর কেড়েছে, আবার অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন—এই নীতিতে কী ধরনের বড় পরিবর্তন এসেছে, আর এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে? এই নতুন শিক্ষানীতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন। পূর্বে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বার্ষিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেই মূল্যায়ন করা হতো। তবে নতুন নীতিতে পরীক্ষার চাপ কমিয়ে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে যারা মুখস্থভিত্তিক পড়ালেখায় দুর্বল, তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে, এবং মেধা বিকাশের সুযোগও বাড়বে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে পাঠ্যসূচিতে। আগের তুলনায় পাঠ্যবইগুলোকে আরও প্রাসঙ্গিক ও বাস্তবমুখী করা হয়েছে। এখন থেকে পাঠ্যবইয়ে থাকবে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা ইত্যাদি বিষয়ে বাস্তবধর্মী পাঠ। শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করবে না, বরং জীবন দক্ষতা অর্জনের জন্যও পড়বে। এতে তারা বাস্তব জীবনে আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে। এছাড়া, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনলাইন ক্লাস, ভার্চুয়াল ল্যাব এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে শিক্ষা আরও সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেয়ে উপকৃত হবে। তবে এর জন্য দেশের সব স্কুলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করাটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। নতুন শিক্ষানীতিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, একজন শিক্ষক যত বেশি দক্ষ হবেন, তত বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। তাই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তবে এই নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে সংশয়। অনেক স্কুলে এখনও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, প্রযুক্তির সুবিধা নেই, এমনকি মৌলিক অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। তাছাড়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানসিক প্রস্তুতিও অনেক জায়গায় এখনও অনুপস্থিত। কাজেই নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে শুধু নীতি নির্ধারণে সীমাবদ্ধ না থেকে এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। সব মিলিয়ে নতুন শিক্ষানীতি শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। তবে এর সুফল পেতে হলে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, সঠিক বাস্তবায়ন এবং সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এই পরিবর্তন যদি সফলভাবে কার্যকর হয়, তাহলে আগামী দিনের শিক্ষার্থীরা হবে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব

ছাত্র জীবনে টাইম ম্যানেজমেন্ট: সফলতার চাবিকাঠি

আইইএলটিএসের প্রস্তুতি মেনে চলুন এই ১০ ধাপ

0 Comments