শিরোনাম
স্বীকৃতি সংকটে রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজ
স্বীকৃতি সংকটে রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজ

রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কলেজটির ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, রি-রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের নামে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। তবে অর্থ জমা দেওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত এডমিট কার্ড হাতে পাননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফাতেমা আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, “ফরম পূরণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো এডমিট কার্ড পাইনি। বোর্ড থেকেও কোনো ধরনের অগ্রগতির তথ্য জানানো হয়নি।”
রাখী আক্তার আইভী নামের আরেক শিক্ষার্থীর দাবি, একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় পুনঃনিবন্ধন ও ফরম পূরণের জন্য কয়েক হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। কিন্তু অর্থ জমা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত প্রবেশপত্র পাননি।
একই অভিযোগ করেন আরমান শিকদার রোদ্র। তিনি বলেন, “আমিসহ অনেক শিক্ষার্থী কলেজে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছি। কিন্তু এখনো এডমিট কার্ড না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
এ ছাড়া মোরসালিন মিয়া, ফারিয়া বিলকিস ও সানজিদা জাহানসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে কলেজটির চেয়ারম্যান আজিজুল রহমান সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক, শিক্ষার্থী ও সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কলেজটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান আজিজুল রহমান সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের গরু বিতরণে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস
ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের গরু বিতরণে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

 

 

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দরিদ্র জেলের জন্য সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত গরু না পাওয়ার ঘটনায় ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দেওয়ায় তালিকাভুক্ত জেলে তারাপদ বিশ্বাস বরাদ্দের গরু থেকে বঞ্চিত হন এবং ওই গরু পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর ও বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফকিরহাট উপজেলার জেলেদের মাঝে গরু (বখনা বাছুর) বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত দরিদ্র জেলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে একটি গরু বরাদ্দ থাকলেও সেটি তাকে দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী তারাপদ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দকৃত গরু দেওয়ার শর্তে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গরু অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি বিক্রি করা হয়েছে।

তার ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান পাননি। বরং অভিযুক্ত পক্ষের মাধ্যমে তাদের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী জানান, তিনি অফিস খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু গ্রহণ করেন, পরে জানতে পারেন সেটি তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দ ছিল।

অভিযুক্ত স্থানীয় ব্যক্তি মোহিত বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে দায়ী নন এবং গরু বরাদ্দ ও বিতরণের সিদ্ধান্ত মৎস্য অফিস থেকেই হয়েছে।

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, প্রকৃত জেলে উপস্থিত না থাকায় কার্ড যাচাই করে অন্য একজনকে গরু দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের পর মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।