শিরোনাম
পার্বতীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবী ও এক মাদক কারবারির কারাদণ্ড
পার্বতীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবী ও এক মাদক কারবারির কারাদণ্ড

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক পাঁচ মাদকসেবী ও এক মাদক কারবারিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রফিকুল ইসলাম (২৯), রাজু ইসলাম (৩১), আরিফ হোসেন (৪২), হুমায়ুন আহম্মেদ তুষার (২০) ও আবু বক্কর সিদ্দিক (২৭)। তাদের প্রত্যেককে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মাদক কারবারি মনোয়ার হোসেনকে (২৯) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বুধবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন চেকপোস্ট থেকে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত আরও তিন মাদক ব্যবসায়ী— ছামিদুল প্রামানিক ওরফে বেতাল (৩৫), জসীম উদ্দীন (২০) এবং রোমান আলীকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “পার্বতীপুরকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

মাদকে সয়লাব সারাদেশ
মাদকে সয়লাব সারাদেশ

দেশে ভয়াবহভাবে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও আইসসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও থামছে না মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কৌতূহল, বন্ধুমহলের প্রভাব ও হতাশা থেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে বাড়ছে অপরাধ, পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দিয়ে দেশে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের নাম বারবার উঠে আসে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করলেও নতুন কৌশলে সক্রিয় থাকছে চক্রগুলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়— সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সরকার, পরিবার ও সমাজকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।