শিরোনাম
সাতক্ষীরায় মাদক নির্মূলে মাঠে নেমেছে এলাকাবাসী
সাতক্ষীরায় মাদক নির্মূলে মাঠে নেমেছে এলাকাবাসী

সাতক্ষীরা পৌরসভার গড়েরকান্দা ও ইটাগাছা পূর্বপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিন দিনের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর গড়েরকান্দা-ইটাগাছা সম্মিলিত জামে মসজিদ কমিটির নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গড়েরকান্দা এলাকার আনজুয়ারা এবং ইটাগাছা পূর্বপাড়ার মাহফুজা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তারা মাদক ব্যবসা বন্ধ করেননি। বরং এর বিস্তার ঘটায় এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয়দের সামনে আনজুয়ারা ও মাহফুজা তিন দিনের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ করার এবং এলাকা ছাড়ার অঙ্গীকার করেন বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় জামিরুল নামে এক ব্যক্তি মাদক কিনতে এলে তাকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর এলাকা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী মসজিদ কমিটির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তিন দিনের মধ্যে মাদক ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিক্ষোভে মসজিদ কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, মৎস্যজীবী দল নেতা রাজু, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, অহিদুজ্জামান, জামায়াত নেতা আফসার আলী, মাহফিজুল ইসলাম, গড়েরকান্দা মৃত্যু ফান্ডের সভাপতি বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবহাটায় র‌্যাবের অভিযানে ১,০৩৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ১
দেবহাটায় র‌্যাবের অভিযানে ১,০৩৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ১

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় র‌্যাবের অভিযানে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১ হাজার ৩৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় কবির হোসেন (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মাঝ সখিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ফেন্সিডিল উদ্ধার করে র‌্যাব-৬, সিপিসি-১, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সদস্যরা।

গ্রেপ্তার কবির হোসেন দেবহাটা উপজেলার মাঝ সখিপুর গ্রামের নওসের আলী সরদারের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাঝ সখিপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১ হাজার ৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ কবির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত ফেন্সিডিল ও তাকে দেবহাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।

পার্বতীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবী ও এক মাদক কারবারির কারাদণ্ড
পার্বতীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবী ও এক মাদক কারবারির কারাদণ্ড

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক পাঁচ মাদকসেবী ও এক মাদক কারবারিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রফিকুল ইসলাম (২৯), রাজু ইসলাম (৩১), আরিফ হোসেন (৪২), হুমায়ুন আহম্মেদ তুষার (২০) ও আবু বক্কর সিদ্দিক (২৭)। তাদের প্রত্যেককে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মাদক কারবারি মনোয়ার হোসেনকে (২৯) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বুধবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন চেকপোস্ট থেকে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত আরও তিন মাদক ব্যবসায়ী— ছামিদুল প্রামানিক ওরফে বেতাল (৩৫), জসীম উদ্দীন (২০) এবং রোমান আলীকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “পার্বতীপুরকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

মাদকে সয়লাব সারাদেশ
মাদকে সয়লাব সারাদেশ

দেশে ভয়াবহভাবে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও আইসসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও থামছে না মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কৌতূহল, বন্ধুমহলের প্রভাব ও হতাশা থেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে বাড়ছে অপরাধ, পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দিয়ে দেশে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের নাম বারবার উঠে আসে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করলেও নতুন কৌশলে সক্রিয় থাকছে চক্রগুলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়— সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সরকার, পরিবার ও সমাজকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।