ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাদকসহ আটকের পাঁচ ঘণ্টা পর ছাত্রলীগ নেতা মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের (৩০) মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ শনিবার গভীর রাতে তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রান্তকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে প্রান্তের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আটকের পর ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর বলেন, “গত রাতে ডিবি পুলিশ আমার ভাতিজাকে আটক করে নিয়ে যায়। সকালে জানতে পারি সে হাসপাতালে মারা গেছে। কীভাবে তার মৃত্যু হলো, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।”
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মধুখালী থেকে গাঁজাসহ একজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যুর ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী এবং সংশ্লিষ্ট মহল।