নিজস্ব প্রতিবেদক, সৈয়দপুর (নীলফামারী):
প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ইউনিটটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি খনির কয়লার ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী শাহ আলম।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৬৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে চালু হওয়া তৃতীয় ইউনিটটি দীর্ঘদিন সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত শেষে চলতি বছরের ২০ মে পুনরায় চালু করা হলেও মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আবারও যান্ত্রিক ত্রুটিতে অচল হয়ে পড়ে। ফলে ২৫ মে থেকে ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। প্রায় ২৯ দিনের মেরামত শেষে মঙ্গলবার রাতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, কোল ইয়ার্ড-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। ভূগর্ভ থেকে উত্তোলিত কয়লা বিকল্প স্থানে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা বাজারে বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খনির কয়লার ব্যবহারও বাড়বে, যা কয়লার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।