ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাইয়েনাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে আটজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (বাবু), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক রায়হান সিরাজী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান, ইসলামিক ফ্রন্টের আনাস, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আল মামুন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মমিনুর রহমান।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান বলেন, মঞ্জুম আলী হলফনামায় দ্বৈত নাগরিক হিসেবে যুক্তরাজ্যের নাম উল্লেখ করেছেন। বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলী বলেন, আমি অন্য দেশের নাগরিক না। সামান্য ভুলের অজুহাতে মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করে এবং ন্যায় বিচার পাবো আশা করছি।
অপরদিকে রংপুর-২ আসনে পাঁচজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে সবাই বৈধ হয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির আজিজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফ আলী।
সংবিধানের ১৫৮(২)(খ) অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আহমেদ নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সিইসির বাসভবনে উপস্থিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২ আসনে জয়ী বিএনপি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণ করবে। এর পরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে দুইজন পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার খোলা প্রাঙ্গণে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারি ও রাজনৈতিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর আগে একই দিনে সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরপরই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যেই সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন করা হবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে শপথ পড়ালেও এবার স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বে না থাকায় সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।