বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে আইসিসি। হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বিসিসিআইয়ের লোকসানের সম্ভাব্য তিনটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর সেই জায়গায় অন্য কোনো ম্যাচ দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের লোকসানের পরিমাণ হতে পারে ৭ থেকে ৩০ কোটি । গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। প্রতিপক্ষ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ড। আর শেষ ম্যাচটি ছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে। ইডেনে ৬৩ হাজার আর ওয়াংখেড়েতে ৩৩ হাজার দর্শক বসে খেলা দেখতে পারেন। অর্থাৎ চারটি ম্যাচ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিটের একটা বিশাল বাজার আছে এখানে।
টিকিট বিক্রির ওয়েসবাইটে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ–ইতালি ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ রুপি, বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ–ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট সর্বনিম্ন দাম ৩০০ রুপি এবং বাংলাদেশ–নেপাল টিকিট সর্বনিম্ন ২৫০ রুপি। এই ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরে গেলে আয় কমবে বিসিসিআইয়ের।
সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিবেশকে ‘সার্কাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতভর ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “ক্রিকেট বোর্ডের চলমান কর্মকাণ্ড ও মিডিয়ার অতিরিক্ত প্রচারণায় আসল খেলার গুরুত্ব হারাচ্ছে। যদি টিকিট কিনে আসেন, খেলা দেখার আসল সুযোগটাই পাবেন না।” আফতাব আরও উল্লেখ করেছেন, “আমেরিকায় তিন বছর থাকতে গিয়ে বোর্ডের অবস্থান ও কার্যক্রম বুঝতে পারিনি। এখানে খেলায় নয়, পুরো সার্কাসটাই আলোচ্য। মিডিয়া এমনভাবে খবর পরিবেশন করছে যে, জানতে চাইলেও খবরের বাইরে থাকা সম্ভব নয়।” গত দেড় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে তিনজন সভাপতি পরিবর্তিত হয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া ফারুক আহমেদের পর তার কাউন্সিলরশীপ বাতিল হয়। এরপর টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দফায় নির্বাচিত হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ঘরোয়া লিগ আয়োজন ও শীর্ষ ক্লাবগুলোর বয়কটের কারণে কমিটি কার্যক্রমে ব্যর্থ হয়। তদন্ত শেষে বুলবুলের কমিটি ভেঙে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নতুন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, যা তামিম ইকবালের নেতৃত্বে সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই পুনর্গঠনেও আফতাবের মতো অনেকেই উদ্বিগ্ন, কারণ খেলার পরিবর্তে কেবল প্রশাসনিক অস্থিরতা ও নাটকীয়তা চলছেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) চলমান অস্থিরতার মধ্যেও নিজের দায়িত্বে অটল থাকা প্রসঙ্গে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেন। বোর্ডের ২৫ পরিচালকের মধ্যে সাতজন ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন, সম্প্রতি আরও চারজনের পদত্যাগের মধ্যেও বুলবুল স্পষ্ট জানালেন, তিনি শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের পাশে থাকবেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বোর্ড সভার পরে এক সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেন, “একটা চেয়ার নিয়ে বসে থাকবো। কী করবো? যাওয়ার জন্য আমিই শেষ ব্যক্তি।” তিনি তার দলের সততা ও নিবেদনকে উল্লেখ করে দেশের ক্রিকেটের সেবা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে মুখোমুখি উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি সময়ের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায়। তবে লিখিত জবাব তিনি প্রদান করেছেন। নিজের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগও বুলবুল খণ্ডন করে বলেন, “নির্বাচনে আমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; শুধুমাত্র জেলা ও বিভাগগুলোকে পুনরায় নাম পাঠানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি।” এই বক্তব্যে বোর্ডের অস্থির পরিস্থিতির মাঝেও বুলবুলের অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীল নেতৃত্ব স্পষ্ট প্রতিফলিত হলো, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামনের দিনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। দীর্ঘদিনের ফাইনাল হতাশা কাটিয়ে অবশেষে প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকার পর ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে উভয় দলের খেলোয়াড়রা চরম স্নায়ুচাপে শট নেন। বাংলাদেশের হয়ে মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে দলকে এগিয়ে রাখেন। গোলরক্ষক মাহিনও গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করেন। পঞ্চম শটে ভারতের ব্যর্থতার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে এগিয়ে আসেন রোনান সুলিভান। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে নেওয়া তার পেনাল্টি জালে জড়াতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়। উল্লেখ্য, এর আগে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে ফাইনালে তিনবার ভারতের মুখোমুখি হয়ে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এবারের জয়ে সেই ধারার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল দলটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় শুধু একটি শিরোপা নয়; বরং এটি মানসিক প্রতিবন্ধকতা ভেঙে বাংলাদেশের ফুটবলে আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।