আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে দেশটির আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সৌদি যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে এই অবস্থানের কথা জানান বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে।
আলোচনায় যুবরাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মতবিরোধ সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় থেকে যুদ্ধ এড়ানোর সব প্রচেষ্টায় তেহরানের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান নিয়ে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করা যাবে না।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, একটি বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন দাবি করছে, সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোই তাদের অগ্রাধিকার।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যদিও ইরান সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস শনিবার জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের তাত্ক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ অগ্রাধিকার। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে মার্কিন নাগরিকরা স্থানীয় কনস্যুলেট বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ওই অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ১৪ সদস্য নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ‘রাদ-উল-জুলম’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করেছে কাবুল। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেখিয়েছে যে প্রয়োজন হলে তারা সীমান্তের বাইরে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে হামলা অব্যাহত রেখেছে। কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জিয়াউররহমান স্পিংঘার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানি সেনারা কুনারের বিভিন্ন এলাকায় ২৭১টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের ওকিনাওয়ার মার্কি ঘাঁটি থেকে ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ উভচর যুদ্ধজাহাজে করে প্রায় ২,৫০০ সদস্যের একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনীই হতে পারে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সম্ভাব্য স্থলসেনা উপস্থিতি। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং সংঘাত সরাসরি স্থলযুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ আধুনিক অবতরণ সক্ষমতা সম্পন্ন একটি যুদ্ধজাহাজ, যা সমুদ্র থেকে দ্রুত স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে মেরিন সেনা পরিবহন ছাড়াও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরান–মার্কিন উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।