ভারতের মহারাষ্ট্রে একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা অজিত পাওয়ার নিহত হয়েছেন। বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি) সকালে বরামতি বিমানবন্দরের কাছে জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উড়োজাহাজের পাইলট এবং অজিত পাওয়ারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও রয়েছেন।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, মুম্বাই থেকে বরামতির উদ্দেশে রওনা দেওয়া উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে বরামতি বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অবতরণের সময় কারিগরি জটিলতার কারণে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে।
এএনআই আরও জানায়, অজিত পাওয়ার বরামতিতে অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি জনসভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে সেখানে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় বিবেচিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার সামরিক সক্ষমতার নতুন প্রদর্শন ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যে দেশটি সমুদ্রের নিচে নির্মিত গোপন মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই ভিডিওতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওতে পানির নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা একাধিক ক্রুজ মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় প্রদর্শিত হয়। আইআরজিসির নৌ কমান্ডার জানান, ইরানের উপকূলীয় জলসীমা ও ওমান সাগরজুড়ে সমুদ্রতলের নিচে বিস্তৃত একটি মিসাইল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে সংরক্ষিত শত শত মিসাইল প্রয়োজনে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আশপাশে অবস্থানরত মার্কিন নৌবহরের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে। তার দাবি অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘কাদের-৩৮০ এল’ মডেলের মিসাইলগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ট্র্যাকিং সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে, যা আঘাতের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম। এর আগে ইরান সতর্ক করে জানায়, দেশটির ওপর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকবে না—যা আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ সরে আসতে হবে এবং তা নিশ্চিত করতে হলে নতুন করে চুক্তিতে আসার বিকল্প নেই। অন্যথায় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর এই প্রথম ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একই আলোচনার কাঠামোয় বৈঠকে বসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এ ত্রিপক্ষীয় আলোচনাকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও, শান্তি চুক্তির মূল বিরোধগুলোতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্রিয় মধ্যস্থতা এবং চাপের মধ্যেই এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতায় ব্যর্থ হলে উভয় পক্ষই ‘অযৌক্তিক আচরণ’ করবে। তবে বৈঠকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন বন্ধের প্রশ্নে কোনো ঐকমত্য হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনাকে শান্তির পথে একটি ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও একে ইতিবাচক অগ্রগতি বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হলেও বাকি ১০ শতাংশ—বিশেষ করে দনবাস অঞ্চলের ভূখণ্ড প্রশ্ন—এখনও সবচেয়ে বড় বাধা। অন্যদিকে রাশিয়া স্পষ্ট করেছে, দনবাস অঞ্চল ছাড়ার প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেবে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ভূমি-সংক্রান্ত দাবি মেনে নেওয়া না হলে যুদ্ধক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জন করবে মস্কো। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ ও দেশটিতে ন্যাটো বাহিনীর উপস্থিতির বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আশ্বাস দিলেও এর বাস্তব কাঠামো ও আইনি ভিত্তি এখনও প্রকাশ পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ও আগের সিদ্ধান্তগুলোর কারণে এই নিশ্চয়তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। এদিকে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে রুশ হামলা তীব্রতর হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ আখ্যা দিয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ যুদ্ধের অবসানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অনড় অবস্থানের কারণে ইউক্রেন সংকটের সমাধান এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
ইরানের কারাজে গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা হবে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ ফাঁসির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এরফানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তার কারাজ শহরের ফারদিস আবাসিক এলাকায়। রোববার (১১ জানুয়ারি) পরিবারের কাছে জানানো হয়, আদালত মাত্র দুই দিনের মধ্যে তার বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এরফানের পরিবারের সদস্যরা শেষবারের জন্য মাত্র ১০ মিনিটের দেখা করতে পারছেন। ইরানের কর্তৃপক্ষ এ মামলার নথি তার বোন, যিনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী, দেখার সুযোগও দেননি। সংস্থার মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, “এ ঘটনা ইরানের সরকারের তৎপরতা প্রদর্শন করে, যা দেশের নাগরিকদের ওপর ভয়ভীতি ও দমন চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।” ২০২২ সালের পর ইরানে চলা বৃহত্তম সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে অন্তত ২,৫৭১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ১২ শিশু রয়েছেন। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির সম্ভাবনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, “যদি ইরান সরকার ফাঁসি কার্যকর করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।” তবে এ পদক্ষেপের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাননি। এই ঘটনা ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দেশটির কঠোর দমননীতি উদ্ভাসিত করছে।