উত্তরের ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র গার্মেন্টস ও কারচুপি শিল্প ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পুঁজিসংকট এবং ভারতীয় রপ্তানি সীমাবদ্ধতার কারণে গত দুই বছরে অন্তত ২৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী ও কারিগর।
সৈয়দপুর রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক শিল্প সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে প্রায় ১০০টি পোশাক কারখানা স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। ফলে পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি সুতা ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং পুঁজি সংকটে দেড়শ কারচুপি কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে, এতে আরও পাঁচ হাজারের বেশি কারিগর কর্মহীন হয়েছেন।

মুন্সিপাড়া এলাকার খান অ্যান্ড সন্স নামের একটি রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস কারখানা সম্প্রতি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানাটির মালিক ও শিল্প সমিতির সভাপতি আকতার হোসেন খান বলেন, উৎপাদন ব্যয় ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কারখানা চালানো সম্ভব হয়নি। এতে ৪৭ জন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৈরি পোশাক এখন কেবল কলকাতা সমুদ্রবন্দর দিয়ে রপ্তানি করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় তিনগুণ বেড়ে গেছে। আগে যেখানে ২০ হাজার টাকায় পণ্য পাঠানো যেত, সেখানে এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। ফলে অনেক উদ্যোক্তা লোকসান দিয়ে উৎপাদন চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
সৈয়দপুর এক্সপোর্টেবল স্মল গার্মেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, চলতি বছরে সৈয়দপুর থেকে ভারতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় দুই লাখ ডলার, যা গত দুই বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।
এদিকে কারচুপি শিল্পের শ্রমিকদের অবস্থাও নাজুক। বহু নারী-পুরুষ কাজ হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিক ও মালিকরা এ শিল্প রক্ষায় সরকারি সহায়তা ও নীতিগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপযোগী ভোটারদের উৎসাহিত করা ও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য পঞ্চগড়ে ভ্রাম্যমান উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণা চালু করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক জানান, নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য এবং প্রার্থী ও ভোটার উভয়ের জন্য আচরণবিধি মেনে চলার জন্য এই ট্রাকযোগে প্রচারণা ও সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান প্রচারণা গাড়িটি পঞ্চগড়ের সব উপজেলায় ঘুরবে এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে টহল কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কোস্ট গার্ড সদস্যরা সুন্দরবন সংলগ্ন লাউডোব এলাকার বাজার ও ভোটকেন্দ্র এলাকায় টহল পরিচালনা করেন। কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৮ দিনব্যাপী উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছে কোস্ট গার্ড। পশ্চিম জোনের আওতাধীন খুলনা-১ ও খুলনা-৬ সংসদীয় আসনের দাকোপ ও কয়রা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মোট ৫৬টি ভোটকেন্দ্রে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কোস্ট গার্ড সদস্যরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত টহল এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোস্ট গার্ডের কঠোর নিরাপত্তা ও তৎপরতার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এলাকায় স্বস্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটের সময় বিভিন্ন আশঙ্কা থাকলেও কোস্ট গার্ডের কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
রামপালের কৃতি সন্তান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাইনুল ইসলাম সোহানকে ২০২৬ সালের জন্য বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি মোড়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দনের মাধ্যমে তাকে বরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি ও কাঁকড়া রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে সিআইপি (এনআরবি) সম্মাননায় ভূষিত করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাইনুল ইসলাম সোহান দেশবাসী ও রামপালবাসীর দোয়া কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবেন। তার এই অর্জনে রামপাল ও বাগেরহাট জেলায় আনন্দ ও গর্বের ছায়া নেমে এসেছে।