শরীয়তপুরে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। জেলার পালং মডেল থানার পৌরসভাধীন স্বর্ণঘোষ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক এবং সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে এক নারীসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর স্টেডিয়ামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিয়া মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।
সেনা সূত্র জানায়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ এলাকায় মন্টু তালুকদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মূল অভিযুক্ত মন্টু তালুকদার পলাতক থাকলেও তাঁর স্ত্রী ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে একটি শটগান, দুটি .২২ বোর রাইফেল, একটি একনালা বন্দুক, বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন ও বিপুল গোলাবারুদ, একটি বিদেশি ড্যাগার, বিদেশি মদ ও মাদক গ্রহণের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী জানায়, মন্টু তালুকদার একাধিক মামলার পলাতক আসামি।
একই সময়ে জেলার নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও অস্ত্র উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাসহ ৪৭ মামলার আসামি খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল আলমকে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মির্জা সায়েম মাহমুদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির একটি দল ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে। সে সময় তিনি ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশ সুপার আরও জানান, রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ অন্তত ৪৭টি মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে খাগড়াছড়িতে নেওয়া হবে। গ্রেফতারকৃত রফিকুল আলম দুই মেয়াদে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের ভাই। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বাড়িবাথান গ্রামে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোটের প্রচারের নাম ব্যবহার করে একটি বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্য ও শিশুদের উপরও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। ভুক্তভোগী মো. রওশন আলীর মা আছিয়া বেগম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির দরজায় এসে ভোট চাওয়ার নাম করে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে তারা জোর করে ঘরে ঢুকে দুই নাতির মাথায় অস্ত্র ধরেন, মুখে টেপ মারার চেষ্টা করেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর হুমকি প্রয়োগ করেন। ডাকাতরা আলমারি ভেঙে তিন ভরি সোনার গয়না ও নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর, এবং তারা একটি মোটরসাইকেলে এসেছিল; দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। স্থানীয় পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার কারণে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রাখার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের কোরুইল্লার টেক ব্রিজের নিচে একটি ধানক্ষেত থেকে ইসমাইল হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদী গ্রামের শরীফ শেখের ছেলে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দ্রুত হত্যার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।