বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না। আপনারা ভয় করবেন না, নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আগে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা অংশ নিলেও আগের রাতেই ভোট হয়ে গিয়েছিল। এবার একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাদের ভোটের মাধ্যমে আমি ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের নেতা তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথমেই ৫০ লাখ মায়ের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচসুবিধা পায়।”
বিএনপি নির্বাচিত হলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন এনজিওতে নারীদের যে ঋণ রয়েছে, সেগুলোও মাফ করা হবে। পাশাপাশি দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
হিন্দু সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের মধ্যে ভয় কাজ করে। ভয় পাবেন না। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।”
জামায়াতে ইসলাম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “জামায়াতে ইসলাম এখন অনেক কথা বলছে। ১৯৭১ সালে তারা কোথায় ছিল, কাদের পক্ষে কাজ করেছিল—তা জাতি জানে। জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষে থেকে স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল।”
এ সময় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফকিরহাটে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বাদ আছর মডেল মসজিদ চত্ত্বর থেকে একটি নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো মোড় চত্ত্বরে শেষ হয়, যেখানে পথসভায় নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফকিরহাট উপজেলা শাখার আমির মাওলানা এবিএম তৈয়াবুর রহমান, সেক্রেটারি শেখ আবুল আলা মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি শেখ সুমন হোসেন, নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার ও ইউনিয়ন যুবনেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ভোটারদের কাছে হ্যা ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এটি দেশের জন্য মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, দেশে অদৃশ্য শক্তির প্রতি নির্ভরশীল নেতা জামায়াতকে গুপ্ত বলছে। নির্বাচনের আগে তারা নতুন রঙ ধারণ করে কথা বলে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পৌর ৮ নং ওয়ার্ডের তুফান কোম্পানীর মোড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য আমরা কাজ করেছি, জেল ও কঠোর সময়ের মধ্যে থেকেও দেশ ছেড়ে যাইনি। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ অতীতে ক্ষমতায় থেকে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য নির্বাচনি এজেন্টদের ঘরে ঘরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, এবার ভোটে কোন কালো টাকা, প্রভাব বা ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে আসবে না। পথসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুকসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা পৌর ৮ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবদুল গফুর।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরে অনেক নির্বাচন ও ওয়াদা ছিল, কিন্তু অধিকাংশ পূর্ণ হয়নি। দেশের যুবকেরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ দাবিতে সংগ্রাম করেছেন, আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাই – ইনসাফ, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু ভোট নয়, এটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মঞ্চ। জুলাই যুদ্ধে রক্ত দেয়া যোদ্ধাদের সম্মানে সবাই ‘হ্যা’ ভোট দিন।” জনসভায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করানো হয়। টাঙ্গাইল-৫ আসনের প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও খন্দকার শাহাবুদ্দিন। নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসভায় বিপুল সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করে দায়িত্ব পালন করেন।