নীলফামারী–৪ আসনে ধানের শীষের পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন আরও জোরালো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার নতুনটেপারহাটে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টার পাঁচজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন।
গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জাপা নেতা মারুফ হোসেন অন্তিক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও ধানের শীষের পক্ষে এক পতাকাতলে অবস্থান নেন।
এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারকে বিজয়ী করতে সমর্থন জানান রণচন্ডী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোখলেছার রহমান বিমান, নিতাই ইউনিয়নের জাপা সমর্থিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর আলম, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব কুমার সরকার দিপু, মাগুড়া ইউনিয়নের সাবেক স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান শিহাব, পুটিমারী ইউনিয়নের জাপা নেতা মোখলেছার রহমান এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা তপন কুমার রায়।
বিএনপিতে যোগ দিয়ে মারুফ হোসেন অন্তিক বলেন, বিএনপির গণতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ও তাঁর কর্মীরা দলে যোগ দিয়েছেন এবং আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
নীলফামারী–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর যোগদান প্রমাণ করে এবার বিএনপি ও জোট সরকার গঠনের পথে রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার গঠন করা হলে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইবনে সাঈদ সুজন। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জালিম বাংলাদেশ থেকে ছাত্রশিবির ও ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। তবে, আমরা আল্লাহ ও রাসুলের সৈনিক, আমাদের যাত্রা থামবে না, জান্নাত পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী শহরে আয়োজিত সমাবেশে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছে যে আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফের দেশ। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ, শহর শাখার সভাপতি মাজেদুল ইসলাম ও সাবেক জেলা সভাপতি আহমাদ রায়হান। অনুষ্ঠানের পরে শহরে র্যালি আয়োজন করা হয়।
রাজধানীতে আন্দোলন চলাকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে এই ঘটনা ঘটে। বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে স্থাপিত ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতেও একই দাবিতে যমুনার প্রবেশপথে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একাধিক আলটিমেটাম দেওয়ার পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় শুক্রবার পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফকিরহাটে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বাদ আছর মডেল মসজিদ চত্ত্বর থেকে একটি নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো মোড় চত্ত্বরে শেষ হয়, যেখানে পথসভায় নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফকিরহাট উপজেলা শাখার আমির মাওলানা এবিএম তৈয়াবুর রহমান, সেক্রেটারি শেখ আবুল আলা মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি শেখ সুমন হোসেন, নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার ও ইউনিয়ন যুবনেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ভোটারদের কাছে হ্যা ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এটি দেশের জন্য মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।