খুলনার লবণচরা থানাধীন পূর্ব হরিণটানা এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাকিব হোসেন (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুবা মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব আশিবিঘা এলাকার বাসিন্দা এবং আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি সেলুনে বসে থাকা অবস্থায় দুই যুবক রাকিবকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। পরে রাস্তায় তার মাথায় পরপর দুটি গুলি করে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, আধিপত্য ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তিনি জানান, রাকিবের বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে—একটি মাদক ও অপরটি হত্যা চেষ্টা সংক্রান্ত।
ঘটনার পর লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধত্রি রানী (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাকোয়া ইউনিয়নের আরাজি সাকোয়া এলাকায় তার বাড়ির পাশে পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ধত্রি রানী সাকোয়া ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং ক্ষীতিশ চন্দ্র বর্মনের মেয়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শরীয়তপুরে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। জেলার পালং মডেল থানার পৌরসভাধীন স্বর্ণঘোষ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক এবং সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে এক নারীসহ দুইজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর স্টেডিয়ামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিয়া মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। সেনা সূত্র জানায়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ এলাকায় মন্টু তালুকদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মূল অভিযুক্ত মন্টু তালুকদার পলাতক থাকলেও তাঁর স্ত্রী ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে একটি শটগান, দুটি .২২ বোর রাইফেল, একটি একনালা বন্দুক, বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন ও বিপুল গোলাবারুদ, একটি বিদেশি ড্যাগার, বিদেশি মদ ও মাদক গ্রহণের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী জানায়, মন্টু তালুকদার একাধিক মামলার পলাতক আসামি। একই সময়ে জেলার নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও অস্ত্র উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টেন্ডারে ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দাখিল নকশা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করে অনিয়ম করে কাজ নেয়ায় দুদকে অভিযোগ কাজ বাগিয়ে নিতে সহায়তা করে শেখ সেলিম তিন চার মাস লাগলে মাত্র দেড় মাসেই সম্পন্ন করে দরপত্র বাছাই, ই-টেন্ডার, দরপত্র মূল্যায়ন, সুপারিশসহ যাবতীয় সব কাজ বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ঠিকাদার নিয়োগে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে পরিবর্তন করা হয় দরপত্রের শর্তাবলি। ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে পাওয়া কাজ তড়িঘড়ি করে শুরু করেছে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই। ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদের কপি ও নানা অনিয়মের প্রমানপত্রসহ এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন সংস্থা দুদক-এ অভিযোগও করা হয়েছে। গত ২১ মার্চ ২০২৪ সালে এ অভিযোগ করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর এ অভিযোগের আর হদিশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পতিত হাসিনা সরকার পতনের আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩০০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয় হাসান অ্যান্ড সন্স লিমিটেড -(এইচএসএল)- এমএসএ (জেবি) কে সহায়তা করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ সেলিম। সহায়তা করে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়ামসহ ৩টি বেইজমেন্ট, ১২ তলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ তৈরি করে পাঠানো হয় গত ২৯ নভেম্বর। অর্থাৎ দেড় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে দরপত্র বাছাই, ই-টেন্ডার, দরপত্র মূল্যায়ন, সুপারিশসহ যাবতীয় সব কাজ। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হয় দরপত্রটি। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের বড় অঙ্কের প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে মূল্যায়ন ও সুপারিশ পর্যন্ত যাবতীয় কাজ শেষ করতে তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায়। কিন্তু এই দরপত্রের ক্ষেত্রে দেড় মাসের মধ্যেই সবকিছু সম্পন্ন করে ফেলে। তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেয় তোড়জোড় করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ হবে। ১২ তলাবিশিষ্ট এই মাল্টিপারপাস ভবনে থাকছে ৩টি বেসমেন্টসহ ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজটি করবে এইচএসএল-এমএসই (জেভি)। ১৫০০ আসনের ভবনের জন্য অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় ২৫০ আসনের কাজের। নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গণপূর্তের ঠিকাদার হাসান অ্যান্ড সন্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছে। এতে সহায়তা করেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। ভবনের নকশা অনুমোদনের আগেই শুরু করেছে নির্মাণ কাজ। প্রকল্প পরিচালক ভবনের নকশা এবং ড্রয়িং অনুমোদনে অনীহা প্রকাশ করলে স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মরিয়া হয়ে ওঠেন নকশা অনুমোদনে। দরপত্র প্রকাশের আগের তারিখে নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব পড়ে আনোয়ার হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের উপর। পরবর্তীতে বিদ্বেষমূলক ঊর্ধ্বতনদের চাপে নকশা অনুমোদনে বাধ্য হয় প্রকল্প পরিচালক। ০৫ আগস্টের পর শেখ সেলিমের বাসার ধ্বংসস্তূপে মিলেছে স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি কাজের নথি। এসকল বড় অংশই ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণেই। বিশেষ করে বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সব উন্নয়নকাজ নিজ হাতে ভাগবাঁটোয়ারা করতেন। বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিতেন মোটা অঙ্কের কমিশন। একটি নথিতে দেখা গেছে, এমএসই এর মালিক মাহবুবের কাছ থেকেও তিনি প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিতেন। এ বিষয়ে এইচএসএল এর পার্টনার এমএসই'র ঠিকাদার মাহবুবের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, “এই কাজে জয়েন্ট ভেঞ্চারে তার নাম শুধু কাগজে কলমে। কার্যত এই কাজে তাঁর কোনো পার্টনারশিপ নেই। তবে সরেজমিনে মহাখালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস সার্জনসের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এইচএসএল এর পাশাপাশি সেখানে তারও সাইড অফিস রয়েছে। এ অফিসে কাজ করছেন তার লোকজন। তার অফিসে কর্মরত নাফিস হায়দার স্বীকার করেন, তিনি ঠিকাদার খন্দকার মাহবুবের অধীনে এখানে কাজ দেখভাল করছেন।” তাদের সাথে কথা বলে তাদের সামনেই ভবন নির্মাণের ভিডিও করার সময় এইচএসএল এর এক কর্মচারী ভিডিও করতে এ প্রতিবেদককে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তিনি মোবাইলে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।পরবর্তীতে ঠিকাদার খন্দকার মাহবুবকে ফোন করে কেন মিথ্যা কথা বলছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো সদ উত্তর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে তিনি রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, “আমরা এনডিই'র সাথে কনটেস্ট করে ফাস্ট লোয়েস্ট হয়ে অনেক লেসে কাজটি নিয়েছি।” কাজটি শেষ করতে আরো দুই থেকে আড়াই বছর লাগবে উল্লেখ করে, তিনি এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।