পূর্ব সুন্দরবনে অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা আহরণের অভিযোগে বনরক্ষীরা সোমবার ও মঙ্গলবারের অভিযানে দুই ট্রলারসহ ২৫ জন জেলেকে আটক করেছে। এ সময় মোট প্রায় ৪০০ কেজি পারশে মাছের পোনা জব্দ করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বগী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফরেস্টার দিলীপ মজুমদারের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা সোমবার দিবাগত রাতে বলেশ্বর নদীতে নিয়মিত টহল চালান। অভিযানে একটি ট্রলার সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয় এবং তল্লাশি করে দেড়শ কেজি পারশে মাছের পোনা জব্দ করা হয়। ট্রলারে থাকা ১০ জন জেলেকে আটক করে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে আনা হয়। আটক জেলেদের বাড়ি খুলনার দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায়।
এছাড়া একই দিনে বিকেলে সুন্দরবনের কোকিলমোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও একটি ট্রলারসহ ১৫ জন জেলেকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে আড়াইশ কেজি পারশে মাছের পোনা জব্দ করা হয়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, “সুন্দরবনের নদীতে অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা আহরণের সঙ্গে জড়িত আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগে পাম্প মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কানাইপুর ইউনিয়নের হোসেন ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। জানা যায়, পাম্পটিতে প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল মজুদ থাকলেও ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পাম্প মালিককে জরিমানা করা হয় এবং দ্রুত জ্বালানি বিক্রি কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পঞ্চগড়ে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত থেকে শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টি ও তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার অনেকাংশে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গাছপালা উপড়ে পড়ায় রাত থেকে বহু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, চন্দনবাড়ী, সাকোয়া, পাচপীর ইউনিয়নসহ দেবীগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় ঝড়ের তীব্রতায় বসতবাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। মরিচ, ভুট্টা, তরমুজ, শাকসবজি, লিচু ও আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। বোদার ভাসাইনগর এলাকার খসরু জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে তাদের ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে এবং ফলজ ও বনজ গাছের ক্ষতি লক্ষাধিক টাকার। শালশিরির এক দরিদ্র কৃষক বলেন, কয়েকদিন পর তোলা যাওয়া মরিচ ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নে শনিবার (২৮ মার্চ) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “স্বর্ণালী প্রভাত” এবং ইসলাম করীম ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে একদিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে ৫০০-এর বেশি রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পান। পুরুষ রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করেন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ মোঃ আব্দুর রহীম, আর নারী রোগীদের সেবা দেন গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিবি তাহেরা সোনিয়া। ক্যাম্পে ব্লাড গ্রুপিং, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, প্রেসার চেকিং, বিএমআই নির্ণয়সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপত্র সরবরাহ করা হয়। ইসলাম করীম ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ড. নুরুল করিম বলেন, “এই ক্যাম্প কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি নয়, বরং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্যোগ।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি গাজী মোহাম্মদ আলমগীর, মোঃ আইয়ুব আলী, স্বর্ণালী প্রভাতের ফাউন্ডার সদস্য ইসরাত জাহান ফাহি, আব্দুল্লাহ আল সাওয়াল, আবু বকর সিদ্দিক, মোঃ আজগরসহ অন্যান্য সদস্যরা।