পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে জেলায় বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের শাখামাছা বাজারে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামসুল ইসলাম এবং জেলা বাজার অনুসন্ধানকারী এটিএম এরশাদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

মনিটরিং চলাকালে দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধি রোধ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং রমজানজুড়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, কোনো অবস্থাতেই যাতে বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিনই এ বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়ায় খোলপেটুয়া নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের প্রায় ১০০ হাত এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্লাবনের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, বাঁধে সম্প্রতি বালির ব্যাগ (জিও ব্যাগ) ফেলে সংস্কার করা হয়েছিল, কিন্তু ফাটল দেখা দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ও আগের দিনের প্রবল স্রোতে সবুর গাজীর বাড়ির পাশের অংশ ধসে পড়েছে, এছাড়া বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণে আরও দুটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী রুহুল কুদ্দুস জানান, উত্তরের ৫০ ফুট ও দক্ষিণের ১০০ ফুটে নতুন ভাঙন দেখা দিচ্ছে। গত বছর ঈদুল ফিতরের দিনও এই বাঁধ ভেঙে আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছিল এবং ব্যাপক ফসল ও মৎস্য ঘেরের ক্ষতি হয়েছিল। আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, “বাঁধের অবস্থা নাজুক। প্রতি মুহূর্তে মাটি নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার না হলে পুরো এলাকা প্লাবিত হতে পারে।” সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানিয়েছেন, ভাঙনের খবর পেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা টেকসই সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্যোগ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়াঘাট এলাকায় রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে করতোয়া নদীতে গোসল করতে নেমে এক যুবক তলিয়ে যান। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা চেষ্টা ও উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবক বদেশ্বরী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সজীব। স্থানীয় সূত্র জানায়, সজীবসহ চারজন যুবক দুপুরে নদীতে গোসলের উদ্দেশ্যে নেমে। সাঁতার না জানা সজীব গভীর পানিতে তলিয়ে গেলে অপরদের মধ্যে দুইজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ৪ ঘন্টা তল্লাশি চালালেও সফল হননি। পরে রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা চালিয়ে নদী তলদেশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে খরার মৌসুমেও ৩০-৪০ ফুট গভীর চোরার বালি গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের গর্তের কারণে নদীতে গোসলের সময় বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা সজীবের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৩ জন ও পঞ্চগড়ে ৪ জন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, গত ৩০ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৩ জন হামের উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৩০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।