নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খন্দকার ফরহাদ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ অনুযায়ী সংশোধিত আইন অনুসারে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন। আদেশটি জনস্বার্থে জারি হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
অ্যাডভোকেট শামীম জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি নীলফামারী শহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মৃত মতিউর রহমান চৌধুরী এবং মাতা বেগম খাদিজা খাতুন।
রংপুর জেলা প্রশাসন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও অবৈধ মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া যানবাহন চালানো, ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ দিয়ে যানবাহন চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই শুধুমাত্র বৈধ কাগজপত্রসহ মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে তেল সরবরাহ করার জন্য পেট্রোল পাম্প, প্যাকড পয়েন্ট ও এজেন্সিগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন সনদ, হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, মানসম্মত হেলমেট, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ এবং প্রয়োজনীয় রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাবে না।
সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অভিযানকালে কুখ্যাত বনদস্যু “জোনাব বাহিনী”-এর হাত থেকে এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জেলেটি হলেন মজিবর গাজী (৫০), খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যরাতে স্টেশন কয়রার একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা জিম্মিকে ফেলে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত জেলেকে বর্তমানে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মোংলা বেইসে আনা হয়েছে এবং তাকে পরিবারকে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলদিয়া ফেরিঘাটে ২৫ মার্চ সংঘটিত মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় যখন বহু যাত্রী নদীগর্ভে প্রাণ হারান, ঠিক সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই জীবন ফিরে পাওয়ার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ফকিরহাটের সুমা আক্তার হীরা (৩৩)। জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে স্বামী ও সন্তানসহ রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন হীরা। দৌলদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর গরমের কারণে তার স্বামী ও সন্তান বাস থেকে নেমে বাইরে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি হঠাৎ নদীতে ডুবে যায়, যার ভেতরে আটকা পড়েন হীরা ও আরও অনেক যাত্রী। চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধি ও আত্মসংযম বজায় রেখে হীরা বাসের জানালা ভেঙে বা খুলে কোনোভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে নদীতে ভেসে ওঠার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয় এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হীরার এই জীবনরক্ষাকারী সংগ্রাম স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী তার সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নিজ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হীরা বলেন, “বাসটি যখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন একটাই চিন্তা ছিল—বাঁচতে হবে।” আইনগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনার বিবরণ নয়; বরং এটি দুর্যোগ মুহূর্তে ব্যক্তিগত সচেতনতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।