নিয়োগাদেশ জারির একদিন পর দায়িত্ব গ্রহণ করতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপস্থিত হন মো. মোস্তাকুর রহমান। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে পৌঁছালে ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান।
কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “কাজ শুরু করি, পরে কথা বলা যাবে।” দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও প্রধান অর্থনীতিবিদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে সভা এবং দুপুরে সচিবালয়ে বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে চার বছরের জন্য তাকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুসারে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ কার্যকর হবে। জনস্বার্থে জারি করা আদেশ অবিলম্বে বলবৎ হয়েছে।
ব্যবসায়ী পটভূমির অধিকারী ও এফসিএমএ ডিগ্রিধারী মোস্তাকুর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কারাবন্দি সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। নির্বাচনী মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের অনুমতি পেতে তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ ঢাকার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। আইনজীবী লিটন আহমেদ জানান, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ১৬ এপ্রিল। প্রার্থিতার বৈধতা নিশ্চিত করতে ব্যারিস্টার সুমনের স্বাক্ষর অপরিহার্য হওয়ায় এ আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২২ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেফতার হন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কারাগারে থাকলেও আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক শীর্ষ সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পাওয়ার পর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন বলে নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার। তিনি জানান, আদালতের জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পর আইনগত বিধি-বিধান অনুসরণ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় এক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে আইনজীবীরা জানান, অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় জামিন আদেশের পর তার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা ছিল না।
ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ দরবারে বাহিনীকে রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে এর নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সাংবিধানিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়—এটি রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তার ভিত্তি। তিনি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদার মানদণ্ডে কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানান এবং আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পাদনে বাহিনীর অবদানকে তিনি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার যে চেষ্টা হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর ছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এটিকে বাহিনী দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন। বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।