বিল গেটস সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রেক্ষাপটে।
গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ‘টাউন হল’ সভায় তিনি স্বীকার করেন, অতীতে দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ওই নারীরা এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভুক্তভোগী ছিলেন না এবং তার সঙ্গে কোনো অবৈধ লেনদেন বা অনৈতিক কার্যক্রমে তিনি জড়িত ছিলেন না।
ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র লিখিত বিবৃতিতে স্বীকারোক্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টিনের সঙ্গে গেটসের একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, দাতব্য কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত আলোচনাই ছিল ওই বৈঠকগুলোর উদ্দেশ্য।
সভায় তিনি বলেন, একজন দণ্ডিত অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সেই বৈঠকে যুক্ত করা ছিল “গুরুতর বিচারিক ও নৈতিক ভুল”। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের পর গেটসের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে মেহালন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস-এর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ নিয়েও নতুন করে জনমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ইউএসএস মাইকেল মার্ফি ও ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন প্রণালির নিকটে পৌঁছালে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয়। পরবর্তীতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন করা হয়। ইরানের সামরিক সূত্র দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্যথায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কতা ছিল। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন জাহাজগুলো দ্রুত সরে যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে তাদের নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং এ অঞ্চলে কোনো ধরনের ‘গোপন বা উস্কানিমূলক সামরিক তৎপরতা’ সহ্য করা হবে না। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ চলমান রয়েছে—যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
হজ ব্যবস্থাপনায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে—নির্ধারিত ‘হজ ভিসা’ ব্যতীত অন্য কোনো ভিসার মাধ্যমে পবিত্র হজ পালন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। রোববার (১২ এপ্রিল) জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, হজে অংশগ্রহণের একমাত্র বৈধ মাধ্যম হলো সরকার অনুমোদিত হজ ভিসা। ভিজিট, ট্রানজিট, ওমরাহ কিংবা টুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং এ ধরনের প্রচেষ্টা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে অবস্থানরত নাগরিক ও প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদনবিহীন বা প্রতারণামূলক চ্যানেলের মাধ্যমে হজ সংক্রান্ত বুকিং বা নিবন্ধনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে “বার্থ ট্যুরিজম” বা সন্তান জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ প্রক্রিয়াকে ঘিরে গড়ে ওঠা সংগঠিত নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও দমন করতে নতুন বিশেষ অভিযান শুরু করেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় “বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ” চালুর কথা জানিয়েছে, যার আওতায় ভিসা জালিয়াতি ও গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করা হবে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমান নীতির অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, সন্তান জন্ম দেওয়া নিজে অবৈধ নয়; তবে ভিসা আবেদন বা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় প্রতারণা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান শিবির জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতিতে সীমাবদ্ধতা আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দীর্ঘদিনের আইনি নজির এই অধিকারকে সমর্থন করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান কাঠামোকে কেন্দ্র করে “বার্থ ট্যুরিজম” বাড়ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।