ইরানের রাজধানী তেহরানেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অপারেশনে আঘাত হানার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং তার বর্তমান অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আশপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সীমান্ত এলাকায় ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার ব্যর্থতার পর উভয় পক্ষই সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই সংঘাত বৃদ্ধির শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তীব্র নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ইতালি সরকার ইসরায়েল-এর সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইতালির ভেরোনা শহরে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র মতে, ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত উক্ত চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়, প্রযুক্তিগত গবেষণা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এটি নিয়মিত মেয়াদ শেষে নবায়নযোগ্য ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। এদিকে আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ এক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন আলাপে এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যর্থ কূটনৈতিক সংলাপের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইরান পক্ষ আলোচনায় অংশগ্রহণে সদিচ্ছা প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে অনমনীয় ও অসমঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি-কেন্দ্রিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে চিফ অব আর্মি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার। লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমানে চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কয়েল বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এ নিয়োগকে “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামোয় নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, এ নিয়োগ শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণার বার্তা। ৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বকে দেশটির সামরিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স (এডিএফ) বর্তমানে নারীদের অংশগ্রহণ ২১ শতাংশে উন্নীত করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।