বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত রুট হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে উভয় দেশ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে আলোচনা হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, প্রস্তাবিত মিশনটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধরত কোনো পক্ষের বাইরে থেকে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, হরমুজে অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
এদিকে চীন সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত রুট হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে উভয় দেশ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে আলোচনা হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, প্রস্তাবিত মিশনটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধরত কোনো পক্ষের বাইরে থেকে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, হরমুজে অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এদিকে চীন সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ব্যর্থতার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করেছে। কূটনৈতিক সমঝোতার পথ ভেস্তে যাওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই বিপরীতমুখী যে আপাতত কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। কোনো চুক্তি ছাড়াই উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দল দেশ ত্যাগ করে। এর মধ্যেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজধানীতে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আবুধাবি, তেহরান ও তেল আবিবসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ভাঙন শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকেই নতুন সংকটের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছু তেল স্থাপনা পুনরুদ্ধারের খবর এলেও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক হিসেবে বর্ণনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সংলাপ ভেঙে পড়ায় এখন মধ্যপ্রাচ্য কার্যত উচ্চঝুঁকির এক অনিশ্চিত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে যেকোনো ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে পাশ কাটিয়ে পূর্ব–পশ্চিম রুটে তেল পরিবহনের কৌশলগত পাইপলাইন পুনরায় সচল করেছে সৌদি আরব, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী জানান, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি দীর্ঘ মেরামত শেষে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে। হরমুজ প্রণালি বাইপাস করে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই অবকাঠামোর মূল উদ্দেশ্য। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পূর্বে সংঘাতে এই কৌশলগত পাইপলাইনটি হামলার শিকার হয়ে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছিল। পুনরায় চালুর পর এর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাইপলাইনটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে সৌদি আরবের রপ্তানি সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং হরমুজ প্রণালিনির্ভরতা কমে যাবে। অন্যদিকে, চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে এই উন্নয়নকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।