ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অধিবেশন শুরুতেই স্পিকারের চেয়ার খালি রাখা হয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে সংসদ নেতা একটি জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব দেবেন। সংসদ সদস্যদের সমর্থন সাপেক্ষে ওই প্রস্তাবিত নেতা প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনকে ভাষণের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে দায়িত্ব নিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম তার নাম প্রস্তাব করেন, যা খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম সমর্থন করেন। সভাপতির দায়িত্বে থাকা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব সংসদে পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংসদীয় নেতা তারেক রহমান সভাপতিত্বের জন্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে, প্রস্তাবের পূর্ণ সমর্থন জানান। বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মন্তব্য করেন, বিষয়টি আগে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হলে তারা খুশি হতেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধী দল জামায়াতকে দেওয়া হলেও তা আপাতত প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কমিটি সভার পর সাংবাদিকদের জানান, তারা এভাবে পদ গ্রহণ করতে আগ্রহী নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দল জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত আলোচনার পর ঘোষণা করবে। সূত্রের খবর, বিএনপি স্পিকার নির্বাচনের দিন ডেপুটি স্পিকারের জন্য মৌখিক প্রস্তাব করেছিল, যা দলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আগে জানিয়েছিলেন, বিরোধী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াত লিখিত প্রস্তাব এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদীয় সংস্কারের বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে। বুধবার (১১ মার্চ) নিরাপত্তাজনিত কারণে মোট ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সর্বশেষ বুধবারের ২৪টি ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত মোট ৩৯১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারের ২টি, ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, ইউএই) ৪টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের (ইউএই) ৪টি, জাজিরা এয়ারের (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের (ইউএই) ৪টি। বেবিচক জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।