দীর্ঘ এক যুগ ধরে বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অবশেষে উচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তবে সম্পূর্ণ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম-এর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানিকালে এ বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেছেন, যা কার্যত মামলার প্রক্রিয়ায় নতুন সময়সীমা নির্ধারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলাটির তদন্ত তদারকির জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি এবং র্যাব-এর অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসভবনে নির্মমভাবে খুন হন এই সাংবাদিক দম্পতি। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত না হওয়ায় বিচারপ্রার্থী পরিবার ও জনমনে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আদালতের এই সর্বশেষ সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রোববার (২৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আগামী মঙ্গলবার জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে। এ ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আগস্টের মধ্যভাগে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধনে রূপপুরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আমান শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করেন। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ডিএনএ নমুনা যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে এবং এ ঘটনায় নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সন্দেহভাজন তিনজনের একজন। অপর দুই সন্দেহভাজন হলেন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহিনুল আলম। এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসামিকে আদালতে হাজির করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ এক দশকেও মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা উভয়ই বিদ্যমান রয়েছে।
সরকারি দায়িত্বের মেয়াদ শেষে পুনরায় একাডেমিক পরিসরে প্রত্যাবর্তন করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বর্তমানে তিনি আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া-এ নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে নির্ধারিত সময়ে তিনি দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর তাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের ক্রান্তিকালীন সময়ে তিনি ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দায়িত্বকালীন হজ ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কিছু নীতিগত পদক্ষেপ জনমহলে প্রশংসিত হয়। দায়িত্ব সমাপ্তির পর তিনি পুনরায় তার পেশাগত মূলধারায়—শিক্ষকতায়—ফিরে এসেছেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে হাদিস ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করছেন এবং একাডেমিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নিজ প্রতিক্রিয়ায় ড. খালিদ হোসেন বলেন, শিক্ষকতা তার মৌলিক পরিচয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসাকে তিনি পেশাগত দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখছেন।