বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা পুনরায় শুরু হলো। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি বলেন, সরকার এই সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধান ও তর্ক-বিতর্কের মূল কেন্দ্রে পরিণত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং জীবনব্যাপী গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে যাওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমন্বিত প্রতিনিধিত্বে কাজ করবে এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য হাসিলের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকার দল–বিরোধী নির্বিশেষে দেশের কল্যাণে কাজ করবে, যেখানে কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য থাকবেনা।
ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে তার প্রার্থীতা নাটোর-সদরের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পেশ করেন, যা সমর্থন দেন এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম। সংসদের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করেন। এই নির্বাচনের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহযোগী হিসেবে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অধিবেশন শুরুতেই স্পিকারের চেয়ার খালি রাখা হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে সংসদ নেতা একটি জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব দেবেন। সংসদ সদস্যদের সমর্থন সাপেক্ষে ওই প্রস্তাবিত নেতা প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনকে ভাষণের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন।
ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক। এতে তিনি দাবি করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর ভোটের সঙ্গে অনিয়ম হয়েছে। শুনানির জন্য আবেদনটি বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ জিতেছেন ৮৮,৩৮৭ ভোটে, আর মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬,০৬৭ ভোট। এ ব্যবধান ২,৩২০ ভোট। আদালত ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকার ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংরক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে আরও ২০ জনের বেশি প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছেন।