রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসন দেশের অবস্থাকে ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জানান, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে যা নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে। তিনি সরকারি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরেন এবং গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অবদানও উল্লেখ করেন।
অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমান সরকারের নীতিমালার সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে। কৃষি ও অর্থনীতিতে সরকারের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। অধিবেশনের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেন। স্পিকারের বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন। বিরোধীদের অনুপস্থিতিতেও রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন, যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং নতুন সরকার ও বিরোধী দলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সরকারি বেঞ্চের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণে উল্লসিত হয়ে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।
ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে তার প্রার্থীতা নাটোর-সদরের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পেশ করেন, যা সমর্থন দেন এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম। সংসদের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করেন। এই নির্বাচনের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহযোগী হিসেবে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অধিবেশন শুরুতেই স্পিকারের চেয়ার খালি রাখা হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে সংসদ নেতা একটি জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব দেবেন। সংসদ সদস্যদের সমর্থন সাপেক্ষে ওই প্রস্তাবিত নেতা প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনকে ভাষণের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন।