চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখল ও আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকায় প্রবেশের জন্য একসময় ‘বিশেষ পরিচয়পত্র’ দেখাতে হতো এবং সশস্ত্র পাহারার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহজে সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন না। বহুবার অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে প্রশাসনকে ফিরে আসতে হয়েছে।
তবে গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানের পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে। প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত ওই অভিযানে কোনো রক্তপাত ছাড়াই পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের পর জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও প্লট–বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ছোট ছোট প্লটে জমি ভাগ করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের পর থেকে নতুন করে জমি কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং আগের ক্রেতারাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং একাধিক মামলায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে এলাকাটিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুর দখলমুক্ত হওয়ার পর সেখানে স্থগিত থাকা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কারাগার, মডেল মসজিদ, আইটি পার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি, পরিবেশগত ক্ষতি এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি—এমন আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিপক্ষের হয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ মার্চ শাহবাগ থানার সামনে একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ওই ঘটনায় রিকশায় মাইকে ভাষণ প্রচারকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষের বাধা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি হস্তক্ষেপে গড়ায়। এ ঘটনায় একটি পৃথক মামলা দায়ের করে পুলিশ। বর্তমানে আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী তিনি জামিনে রয়েছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়া (হানিফ মোড়) এলাকার মসজিদে আলীতে দানবাক্স খুলে মিলেছে এক জোড়া স্বর্ণের দুল, নগদ ৭ হাজার টাকা এবং একটি হৃদয়স্পর্শী চিরকুট। চিরকুটে লেখা ছিল, “আমার আম্মু অসুস্থ আছে, আপনারা দোয়া করবেন যেন সুস্থ হয়ে যায়।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি উপস্থিত সবার আবেগ ছুঁয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের সুস্থতার আশায় কোনো সন্তান নিঃশব্দে এই দান করেছেন। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাজাদা আলম জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুই মাস অন্তর দানবাক্স খোলা হয়। সর্বশেষ দানবাক্স খোলার সময় রঙিন কাগজে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের দুল ও চিরকুটটি পাওয়া যায়। পরে যাচাই করে এর বাজারমূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা বলে জানা যায়। মসজিদের ইমাম হাফেজ আখতার বলেন, “এই দান আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। দানের মূল্যের চেয়ে এর পেছনের নিয়তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দানকারীর মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া করি।” মসজিদ কমিটি জানিয়েছে, এই দান মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি সমাজে মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফরিদপুরের উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মরিয়ম (১২) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে নগরকান্দা বাজারে শাখার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মরিয়ম উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বড় কাজুলী গ্রামের আসাদুজ্জামানের মেয়ে। সে -এর ছাত্রী ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ইটবোঝাই একটি চার চাকার ট্রলির ধাক্কায় মরিয়ম সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে তার মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে -এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলি গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। তবে ট্রলির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়নি। নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “এ ঘটনায় এখনো মামলা বা জিডি দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।