আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় নতুন মোড়—সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে দায়েরকৃত দুটি হত্যা মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-এ দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় আইভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতার দেখানোর পূর্ববর্তী আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এর আগে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হলেও উচ্চ আদালত থেকে ধারাবাহিকভাবে জামিন লাভ করেন তিনি; তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে কয়েক দফা সেই জামিন স্থগিতও হয়েছে। সর্বশেষ, সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় বিচারিক আদালতের অনুমোদনে গ্রেফতার দেখানোর পর বিষয়টি পুনরায় উচ্চ আদালতে ওঠে।
আইনজীবীরা বলছেন, একই আসামির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে একাধিক মামলায় গ্রেফতার প্রদর্শন এবং জামিন স্থগিতের ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা বাড়াচ্ছে। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় আইনানুগ প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলমান মামলাগুলোতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে আরও নির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের আশঙ্কার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো কামরুল ইসলাম-কে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে অবস্থানকালে হাজিরা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও প্রসিকিউশনের কড়া নির্দেশনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তিনি প্রথমে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার ও চিফ প্রসিকিউটরকে অবহিত করলে, প্রসিকিউশন তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেয়—যেকোনো অবস্থায় আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে। পরবর্তীতে নির্দেশনা কার্যকর করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে। এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ ঘোষণার কথা রয়েছে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী পূর্বে অব্যাহতির আবেদন করে দাবি করেছেন যে, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রসিকিউশন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, আসামিরা রাজনৈতিক প্ররোচনার মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি।
সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার সার্ভিস যুক্ত করা হবে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা, সমুদ্র নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সুন্দরবন রক্ষায় কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত টহলের ফলে সমুদ্র নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, যা এখন জনগণের আস্থার একটি বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক বলেন, বাহিনীটি দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে। জনবল সংকট থাকলেও তা পূরণ করা গেলে সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত ১৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
নারীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বহুমুখী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে গৃহস্থালি পর্যায়ে রান্নাজনিত ভোগান্তি হ্রাসে নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড সেবা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলায় অবস্থিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধাপে ধাপে বিভিন্ন সহায়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে এলপিজি কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারে সহজতা আনা, ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পরিবারভিত্তিক কার্ড বিতরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনকল্যাণই হবে মূল নীতিমালা এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণআন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এসেছে, তা এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে তিনি জানান, অদূর ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যাওয়া একাধিক কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খাল পুনর্খনন কাজে স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও অর্থ লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।