বাগেরহাটের ফকিরহাটে পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাদল রায় চৌধুরী ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ গ্রামের মৃত অনন্ত রায় চৌধুরীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ঘাতক পিকআপ ভ্যানটির সন্ধান করা হচ্ছে এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে দুটি বিদেশি জাহাজ। ভারতের কোলকাতা বন্দর থেকে পানামা পতাকাবাহী ‘এইচ টি পাইনিওর’ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন এবং ভিয়েতনাম পতাকাবাহী ‘হোয়াংটন-৮৯’ জাহাজে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। স্থানীয় শিপিং এজেন্ট সেভেন সিয়েস–এর ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানান, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এই চাল আমদানি করা হয়েছে। কোলকাতা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ দুটি মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে চাল খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বড় জাহাজ থেকে চাল খালাস করে ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি খাদ্যগুদামে পাঠানো হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে জাহাজ দুটি থেকে পুরো চাল খালাস সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে মোংলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবাহান সরদার জানান, জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় সরকার ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে মোট আট লাখ টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোংলা বন্দরে এটি নবম চালান। তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা ও সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানি করা হচ্ছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত এই চালের মধ্যে নন-বাসমতি চালের পরিমাণ বেশি, যা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতের পেট্রাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়েও নিয়মিত চাল আমদানি হচ্ছে, যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখল ও আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকায় প্রবেশের জন্য একসময় ‘বিশেষ পরিচয়পত্র’ দেখাতে হতো এবং সশস্ত্র পাহারার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহজে সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন না। বহুবার অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে প্রশাসনকে ফিরে আসতে হয়েছে। তবে গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানের পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে। প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত ওই অভিযানে কোনো রক্তপাত ছাড়াই পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের পর জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও প্লট–বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ছোট ছোট প্লটে জমি ভাগ করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের পর থেকে নতুন করে জমি কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং আগের ক্রেতারাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং একাধিক মামলায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে এলাকাটিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এদিকে জঙ্গল সলিমপুর দখলমুক্ত হওয়ার পর সেখানে স্থগিত থাকা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কারাগার, মডেল মসজিদ, আইটি পার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি, পরিবেশগত ক্ষতি এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল চারটি পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য বিলকিস ইসলাম স্বপ্না। জানা গেছে, বাহাগিলি ইউনিয়নের ঠিকরীপাড়া এলাকার ‘যে পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী’ শীর্ষক একটি সংবাদ গত ৫ মার্চ দৈনিক নিখাদ খবর–এ প্রকাশিত হলে বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত তিনি ওই পরিবারসহ উপজেলার আরও তিনটি ছিন্নমূল পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। প্রতিবন্ধী পরিবারটির দুর্দশার কথা শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে ওই পরিবারের জীবিকার বিষয়ে দুশ্চিন্তা না করতে হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় তাকে দেখতে গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় করেন। এদিন তিনি নিতাই ইউনিয়নের ফরুয়াপাড়া গ্রামের শরিফা (৬১) নামের এক আশ্রয়হীন পরিবারের জন্য দুই বান্ডিল ঢেউটিন সহায়তা দেন। একই দিনে পুটিমারী ইউনিয়নের শাল্টিবাড়ী শাহপাড়া এলাকার অসুস্থ ও ছিন্নমূল মুক্তার আলীকে (৬৫) একটি চার্জার ভ্যানগাড়ী প্রদান করেন। পরে বিকেলে চাঁদখানা ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী কামারপাড়া এলাকার আশ্রয়হীন রেখা রায়কে (৩৫) একটি নতুন টিনের ঘর উপহার দেন তিনি। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে রেখা রায় বিলকিস ইসলাম স্বপ্নার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, বিলকিস ইসলাম স্বপ্নার বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের দারোগাপাড়া গ্রামে। এ সময় তার সঙ্গে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, কিশোরগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রোকসানা আফরোজ সাথীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।