খুলনা মহানগরের দৌলতপুরে সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যুবদল নেতা রাকিবুল আলম রাশু–কে। ঘটনাটি দৌলতপুর থানার কেডিএ কল্পতরু মার্কেট এলাকায় তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হয়।
নিহত রাশু ৩৫ বছর বয়সী এবং দৌলতপুর থানা যুবদলের সক্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি আগে দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কল্পতরু মার্কেটে ইট, বালি ও সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। তাঁর পিতার নাম মো. শরীফ আনাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় রাশু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলির একটি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। গুলির শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ঘটনাস্থলে তিনটি গুলির খোসা পাওয়া যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় নিহতের স্বজন, বন্ধু ও দলীয় নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন, ফলে এলাকায় শোকাবহ ও আতঙ্কপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অর্থ আত্মসাৎ ও জাল চেকের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতা ও রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম বাবলু এবং তার স্ত্রী আইরিন আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গুলশান থানার একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অর্থ আত্মসাৎ ও জাল চেক ব্যবহারের মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। গ্রেফতার হাবিবুল ইসলাম বাবলু ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শিবগঞ্জ পূর্বপারপুগী গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী আইরিন আক্তারও ওই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম এবং জাল চেক ব্যবহারের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে ছিলেন এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত বাবলুর গ্রেপ্তারের ঘটনায় ঠাকুরগাঁও জেলায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহীতে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত একাধিক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি ও নৈতিকতা প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাহিনীরই এক নারী সদস্যের দায়ের করা লিখিত অভিযোগে প্রতারণামূলক বিয়ে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সার্জেন্ট মোসা. সাবিহা আক্তার দাবি করেছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার পূর্ববর্তী বৈবাহিক তথ্য গোপন রেখে ২০২০ সালে তাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে বৈবাহিক সম্পর্কে ধারাবাহিক নির্যাতন, একাধিক সম্পর্কের অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয় এবং সম্পর্ক বজায় রাখার আশায় অভিযুক্তকে প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বর্তমানে তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যার দায়িত্ব ভুক্তভোগী এককভাবে বহন করছেন। এছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এলে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসনিক সংযুক্তিতে রাখা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রাপ্তির পর প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; বরং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর সদস্য হিসেবে গুরুতর নৈতিক ও পেশাগত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের হাসিমপুর-কলাবাড়িয়া এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহামদকে ১০ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফেতার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়পুরা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে রায়পুরা থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে দৈনিক নিখাদ খবরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান। গ্রেছতারকৃত জুনায়েদ উপজেলার চান্দেকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। ঘটনা জানাজানি হলে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত জুনায়েদ। পরে মামলার প্রায় ৩০ ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত জুনায়েদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় রায়পুরা থানা পুলিশ। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো মজিবুর রহমান বলেন, অপরাধ করে আইনের কাছ থেকে কেউ রেহায় পাবে না। সে যতোই ক্ষমতাধর হোক না কেন। আমরা ইতিমধ্যে জুনায়েদকে গ্রেফতার করেছি, আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি যেন হয় সেটাই আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে প্রার্থনা করবো। তবে জনগনের উদ্দেশ্য আমি বলবো অতি উৎসাহী হয়ে কোন ধরনের আক্রমণাত্মক কাজ করা হতে বিরত থাকবেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার যেন সঠিক বিচারটা পায় আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করছি। এর আগে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে আপত্তিকরভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করে এবং পরে তাকে ধর্ষণ করেন মাদরাসার মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ। ঘটনার পর সকালে অসুস্থতা বোধ করলে ওই ছাত্রী তার খালার বাড়ির রায়পুরা পৌর শহরের মৌলভীবাজারের বাসায় চলে যায়। সেখানে তার অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ঘটনার বিস্তারিত ওই ছাত্রী তার খালাকে জানাই। পরে ওই ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রীকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরইমধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মাধ্যমে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীদের তোপের মুখে বন্ধ হয়ে যায় সালিশ। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদরাসা একটি সাঁটার ভাঙচুর করে এবং ছাত্রী ধর্ষণের বিচার দাবি জানান। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলে। পরদিন (রোববার ২৬ এপ্রিল) ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।