মোংলা-খুলনা মহাসড়কের গুনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত ১৪ জনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে মোংলার ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারকে সাহায্যের অর্থ তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোংলার ৯ জন নিহতের পরিবারকে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং রামপালের মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল একেএম জাকির হোসাইন, মোংলা দিগরাজ নৌঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জুবায়ের শাহীন, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, সহকারী পুলিশ সুপার রাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি।
অধিকাংশ পরিবার নগদ সহায়তা গ্রহণ করেছেন, বাকী ৪ জন নিহতের পরিবারকে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোংলার বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকের পরিবারের ৯ জন, তার নতুন পুত্রবধূসহ একই পরিবারের আরও ৪ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক নিহত হন।
হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময় প্রয়োজন, এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। সোমবার (১১ মে) বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ২০২০ সালের পর নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় বর্তমান হাম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ছিল না, তবে দ্রুত টিকা সংগ্রহের ফলে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। পরে তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি রেজিস্টার পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও সংক্রমণে মোট ১১ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন উপসর্গ নিয়ে এবং ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল। রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০৫ জন শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৭৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আঞ্চলিক বিভাজনে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারী ৪ জনের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিভাগে এবং ১ জন বরিশাল বিভাগে ছিল। একই সময়ে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৫০৩ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে ১ হাজার ১১৬ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৬ হাজার ৮১৯ জনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনের বেশি, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
লবণাক্ত উপকূলীয় জনপদে যেখানে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ একসময় ছিল প্রায় অকল্পনীয়, সেখানে বারোমাসি কাটিমন আমের সফল বাগান গড়ে আলোচনায় এসেছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা হালদার রুহুল মমিন মুকুল। বিষমুক্ত আম উৎপাদন ও অনলাইনভিত্তিক বাজারজাত ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের এই কৃষি উদ্যোক্তা ছাত্রজীবন শেষ করে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে পৈতৃক দুই একর জমিতে কাটিমন আমের বাগান গড়ে তোলেন। প্রথমদিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ১০০টি চারা এনে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার বাগানে গাছের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০। প্রথম বছরেই উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে ধারাবাহিক ফলন ও বাজার চাহিদা বাড়ায় কয়েক বছরে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আম বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে গাছজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাটিমন আম, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। চাষি মুকুল জানান, চলতি বছর বাগান পরিচর্যা, শ্রমিক ও ওষুধ বাবদ প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে আম বিক্রি শুরু হবে এবং এ মৌসুমে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাটিমন আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও পাতলা আঁটির কারণে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকেই প্রতি কেজি আম ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনলাইন ও কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বিষমুক্ত এ আম। মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় কাটিমন আমের বাণিজ্যিক চাষে উল্লেখযোগ্য সফলতা পেয়েছেন রুহুল মমিন মুকুল। তার বাগানের ফলন ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও ইতিবাচক আগ্রহ তৈরি করেছে।