নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৪ নম্বর স্টিমারঘাট সেতু বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চললে এটি কেঁপে ওঠে, যা চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় ট্রাকচালক আনোয়ার হোসেন জানান, “ট্রাক দিয়ে উঠলেই সেতু কাঁপে, কিন্তু উপায় না থাকায় চলতে হচ্ছে।” সেতুতে বর্তমানে ৪২টি পিলার রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় কংক্রিট খসে ভেতরের রড বের হয়ে এসেছে, যা সেতুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সেতুর দুই পাশে পাঁচ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাস্তবে ১৫-২০ টন, এমনকি ৩০-৪০ টন ওজনের যানবাহন নিয়মিত পার হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে চারজন গ্রাম পুলিশ থাকলেও ভারী যান নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।
সওজ নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, “ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন সেতু না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডালিয়া–জলঢাকা সড়কে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ‘স্লুইচ গেট’ এলাকায় ২০-২৫ জনের ডাকাত দল পথরোধ করে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অন্তত ৫০টি মোবাইল ফোন ও প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা লুট করে। ডাকাতরা কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর ও যাত্রী ও চালকদের মারধর করে আহত করেছে। স্থানীয়রা ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, নীলফামারী র্যাব-১৩ সিপিসি ২ এবং ডিমলা থানার যৌথ অভিযানে দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের নুরল হকের ছেলে মালেক (৩৫)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। সোমবার (৩০ মার্চ) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নিয়াজ মেহেদী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহারিয়ার সিফাত (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে পৌরসভার গড়কান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিফাত স্থানীয় মাহফুজুর রহমানের ছেলে এবং তিনি পবিত্র কোরআনের একজন হাফেজ ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোসল শেষে ভেজা শরীরে ঘরে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন চার্জ দিতে গেলে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বাসটার্মিনাল সংলগ্ন নিয়ামতপুর (ভজে পাড়া) এলাকায় রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ছয়টি পরিবারের বসতঘর ও মালামাল সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিপি আক্তারের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে সাইদুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, জাহিনুর ইসলাম, মোকছেদুল হক, লিপি আক্তার ও শফিকুল ইসলামের পরিবার সর্বস্ব হারায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু হাসেম।