নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ২নং রেলগেটের অপ্রশস্ততা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেশন সংলগ্ন হওয়ায় ট্রেনের ঘনঘন সান্টিং কার্যক্রমের ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার গেট বন্ধ রাখতে হয়, এতে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ব্যাহত হচ্ছে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে চার লাখ মানুষের বসবাস, যাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এই রেলগেট। বর্তমানে প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত গেটটি সম্প্রসারণ করে অন্তত ৬০ ফুটে উন্নীত ও ওয়ানওয়ে ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইঞ্জিন সান্টিংয়ের সময় অসতর্কভাবে রেললাইনে প্রবেশ করা যানবাহন অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়, যা নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আরও প্রকট করে তুলেছে। স্থানীয় চিকিৎসক ওয়াসিম বারী জয় জানান, দ্রুত রেলগেট সম্প্রসারণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা রেলগেটটিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রেলওয়ে পূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদের মাধ্যমে গেটটি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে।
মাদারীপুরের থানতলী এলাকায় রোববার (২৯ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতা সোমবার (৩০ মার্চ) ভোর পর্যন্ত তীব্র রূপ নেয়, যখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং অন্তত ১৫টি বসতঘর ধ্বংস হয়। এই ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সমস্যা শুরু হয়েছিল শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে শহরের প্লানেট কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। এসময় চেয়ারের বসাকে কেন্দ্র করে থানতলী এলাকার ফজল খাঁর ছেলে আকিব খাঁ ও পাকদী এলাকার দবির মুন্সির ছেলে মঈন মুন্সির মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। যদিও উপস্থিতরা তা মীমাংসা করেন, কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রথম দফার সংঘর্ষ চলাকালীন একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রাত ৯টার দিকে দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে অংশ নেওয়া উভয়পক্ষের লোকজন আহত হন এবং এলাকায় সম্পত্তি নষ্ট হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পাকদী এলাকার প্রায় ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর হয়। আহতদের চিকিৎসা স্থানীয় হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, শিশু সহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের তৎপরতায় আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকাবাসী বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনে অবৈধ জলদস্যু “নানা ভাই” বাহিনীর নাশকতায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ মার্চ বিকেলে কালাগাছিয়া অফিস সংলগ্ন বাদুরঝুলি খাল থেকে মাছ ধরার সময় অস্ত্রধারী দস্যুরা শফিকুল ইসলাম লালু (৫০) নামে এক জেলেকে অপহরণ করেছে। তার পরিবার দাবি করছে, জলদস্যুরা মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেছে এবং সময়মতো অর্থ না দেওয়া হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনের খাল ও উপকূলীয় জলসীমায় মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়া জেলেরা এখন দস্যুদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে রবিবার দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত দস্যুদের গ্রেপ্তার এবং জেলেকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য তৎপরতার দাবি করেছে। সংক্ষেপে, সুন্দরবনে জলদস্যু কর্মকাণ্ড নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছে, যা উপকূলীয় জনপদে জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং জীবিকার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
নীলফামারীতে ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বালু মহলকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয়রা। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সদর উপজেলার কচুকাটা, তিন থানার মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ভুয়া লিজের কাগজ দেখিয়ে সরকারি জমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও সামাজিক পরিবেশের অবনতি ঘটছে। বিক্ষোভকারীরা আনিছুর রহমান ও সুদী ব্যবসায়ী মুন্নুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।