শেরপুরের শ্রীবরদীতে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা একটি স্টিলের ট্যাংকের ভেতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তাঁতিহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত ট্যাংক পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। দীর্ঘ সময় একই স্থানে পড়ে থাকার পর ট্যাংকটির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে তারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্যাংকের তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর হাত-পা বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা মরদেহটি ট্যাংকের ভেতরে রেখে যায়।
শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ মার্চ শেরপুর শহরের মোবারকপুর এলাকায় একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনারও এখনো কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ, যা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদের দায়ে হান্নান হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে রেখেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মজুদের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার বাড়ি থেকে ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দকৃত তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, জনস্বার্থবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ মজুদদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযানকালে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জের চারটি ইউনিয়নে মঙ্গলবার (১ মার্চ) মধ্যরাতে কালবৈশাখী ঝড়ে দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। একই সময়ে ৩৮ হেক্টর ভুট্টা ফসলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলঢাকার খুটামারা, ধর্মপাল, গোলনা এবং কিশোরগঞ্জের পুটিমারী ইউনিয়নে গভীর রাতে শুরু হওয়া ঝড় ও বৃষ্টিতে ঘরের চালা উড়ে যায়, গাছ ভেঙে পড়ে এবং অনেক জায়গায় টিন উড়ে গেছে। তবে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলা কৃষি অফিসাররা জানিয়েছেন, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জের প্রায় ১৫০ হেক্টর ভুট্টা খেত ঝড়ে হেলে পড়েছে এবং ১২ হেক্টর জমিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা জানিয়েছেন, পুটিমারী ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কারণে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বুধবার বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন জানান, কয়েকটি পিলার হেলে গেছে এবং বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চুরি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে শহরের রাজবাড়ী এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ কার্যালয়ে তিনি দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণকালে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এসময় জেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নবাগত প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। দায়িত্ব গ্রহণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, গাজীপুর জেলা পরিষদের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে। জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলার চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা পরিষদের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে।