নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় অধিকাংশ বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না, আবার রাতেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক পরিবারকে মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে রান্না করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনেক এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর অনেক স্থানে চুলা নিভু নিভু করে জ্বলে, আবার কখনো পুরো দিনই গ্যাস থাকে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গৃহিণী, শিশু ও বয়স্করা।
পৌরসভার এক বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক বলেন,
“আমরা দুজনেই সকালে স্কুলে যাই। গ্যাস না থাকায় প্রায়ই নাস্তা করতে পারি না। রাতে রান্না করা ঠান্ডা খাবার নিয়েই দুপুর পার করতে হয়। বাধ্য হয়ে লাইনের গ্যাস থাকা সত্ত্বেও সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, যা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। কেউ কেউ ছাদে বা উঠানে মাটির চুলা ব্যবহার করে কাঠ-খড়ি জ্বালিয়ে রান্না করছেন। অন্যদিকে, হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপরও বাড়ছে চাপ।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বসুরহাট অফিসের সহকারী প্রকৌশলী আমান উল্যাহ বলেন,
“বর্তমানে সারা দেশেই গ্যাস সংকট রয়েছে। ফেনী অঞ্চলের ট্রান্সমিশন লাইন থেকে চাপ কমে যাচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে।”
স্থানীয়দের দাবি, সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, কোম্পানীগঞ্জের গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হওয়া গ্যাসের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে সংযুক্ত করা গেলে সংকট অনেকটাই কমে আসবে। এলাকাবাসী আশা করছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদের দায়ে হান্নান হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে রেখেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মজুদের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার বাড়ি থেকে ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দকৃত তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, জনস্বার্থবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ মজুদদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযানকালে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জের চারটি ইউনিয়নে মঙ্গলবার (১ মার্চ) মধ্যরাতে কালবৈশাখী ঝড়ে দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। একই সময়ে ৩৮ হেক্টর ভুট্টা ফসলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলঢাকার খুটামারা, ধর্মপাল, গোলনা এবং কিশোরগঞ্জের পুটিমারী ইউনিয়নে গভীর রাতে শুরু হওয়া ঝড় ও বৃষ্টিতে ঘরের চালা উড়ে যায়, গাছ ভেঙে পড়ে এবং অনেক জায়গায় টিন উড়ে গেছে। তবে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলা কৃষি অফিসাররা জানিয়েছেন, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জের প্রায় ১৫০ হেক্টর ভুট্টা খেত ঝড়ে হেলে পড়েছে এবং ১২ হেক্টর জমিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা জানিয়েছেন, পুটিমারী ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কারণে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বুধবার বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন জানান, কয়েকটি পিলার হেলে গেছে এবং বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চুরি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে শহরের রাজবাড়ী এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ কার্যালয়ে তিনি দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণকালে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এসময় জেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নবাগত প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। দায়িত্ব গ্রহণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, গাজীপুর জেলা পরিষদের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে। জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলার চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা পরিষদের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে।