মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটিকে “সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার” হুমকি দিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) তিনি এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি না হলে ইরান ব্যাপক হামলার মুখোমুখি হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরান তছনছ হয়ে গেছে, প্রতিদিন তাদের সবকিছু পুনর্নির্মাণ করতে হবে—বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, সব কিছু। এর আগে কোনো দেশ এমন ক্ষতির মুখোমুখি হয়নি।” তিনি সময়সীমাও কিছুকাল থেকে “কয়েক দিনের মধ্যে” পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন।
এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছেন, প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে সর্তক অবস্থা মেনে চলতে হবে, নাহলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হবে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হলিউডের সুপারমডেল জিজি হাদিদ সম্প্রতি প্রকাশিত জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে নিজের নাম উল্লেখ হওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনস্টাগ্রামে এক ভক্তের মন্তব্যের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি জেনে তিনি ‘অত্যন্ত ঘৃণিত ও অসুস্থতা বোধ’ করেছেন। জিজি স্পষ্ট করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কখনো কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, “আমি জীবনে কখনো ওই দানবের সঙ্গে দেখা করিনি। এ ধরনের নথিতে আমার নাম জড়িয়ে যাওয়া ভয়ংকর।” তার বক্তব্যে তিনি জানান, এপস্টেইন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন, যার ফলে অজ্ঞাত কারণে অনেকের নাম নথিতে উঠে এসেছে। জিজি আরও জানান, এত দিন এই বিষয়ে মুখ খোলেননি, কারণ প্রকৃত ভুক্তভোগীদের গল্প থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল তার। ৩০ বছর বয়সী মডেলটি নিজের পরিশ্রম ও পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর আলোকপাত করে বলেন, তিনি সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবেশে বড় হলেও কঠোর পরিশ্রমের মূল্য শিখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০১৫ সালের একটি ই-মেইল আদান-প্রদানে জিজি ও তার বোন বেলা হাদিদের নাম উল্লেখ আছে। নথিতে অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এপস্টেইন কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন। জিজি হাদিদ এই বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, এটি তাঁর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালে এপস্টেইন আবারও নাবালিকা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে বিচার শুরুর আগেই কারাগারে আত্মহত্যা করেন। তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে নারী পাচারের দায়ে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার প্রিমোরস্ক তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রোববার (৫ এপ্রিল) রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৯টি ইউক্রেনের ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একটি ধ্বংসাবশেষ প্রিমোরস্ক বন্দরের কাছে তেল পাইপলাইনের একটি অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি নিরাপদে ধ্বংস করা হচ্ছে। এ ধরনের হামলা সম্প্রতি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার অবকাঠামোগত স্থাপনা লক্ষ্য করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসে প্রিমোরস্কে একটি তেল ডিপোও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ লাইনগুলোর ওপর ভবিষ্যতে আরও সজাগ নজর রাখবে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহে নতুন উদ্বেগের সূচনা করেছে।
ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও উচ্চমাত্রার সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা (কর্নেল) এবং বর্তমানে তিনি নিরাপদ ও শারীরিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছেন, যদিও সামান্য আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাইলটকে উদ্ধারে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হয় এবং অভিযানে অংশ নেয় একাধিক যুদ্ধবিমান ও বিশেষ বাহিনী। এর আগে শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্রুকে উদ্ধারে বিশেষ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান শুরু করে। অপরদিকে, ইরান কর্তৃপক্ষও নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে তল্লাশি জোরদার করে এবং তাকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনীই ওই পাইলটকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সীমান্ত-অতিক্রমী সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।