জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (প্রথম সংশোধন)’ এবং ‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (তৃতীয় সংশোধন)’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্পের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং আধুনিকীকরণ (প্রথম সংশোধিত)’ এবং ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়সীমা ও অর্থব্যয়ের যথাযথতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা উৎসব ভাতা চলতি বছরে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই ভাতা বৃদ্ধি দ্রুত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আসন্ন ঈদুল আজহার পূর্বেই তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পে-স্কেল কাঠামো পুনর্বিবেচনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, উৎসব ভাতা বৃদ্ধি ও বেতন কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার হবে এবং পেশাগত স্থিতিশীলতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশন ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১১তম কমিশন সভার পর এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। আখতার আহমেদ জানান, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনও ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে এবং এসব নির্বাচনের গুরুত্ব ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ভোটের সমান। কমিশন জানিয়েছেন, চলতি নির্বাচনের ৫০টি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচন সামগ্রী সংরক্ষণ করা হবে এবং তা এক বছর পর্যন্ত রাখা হবে। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী মনোনয়ন দেবে এবং মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন। আইন অনুযায়ী সাধারণ আসনের নির্বাচনী ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেটের ভিত্তিতে, কমিশনের লক্ষ্য দ্রুত এই নির্বাচন সম্পন্ন করা।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী উত্থাপন করা সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬ প্রজ্ঞাপনভিত্তিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই সংশোধনের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই বয়সসীমা প্রযোজ্য হবে সিভিল সার্ভিসের বাইরে থাকা অন্যান্য সরকারি চাকরিতে, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরিতেও। তবে প্রতিরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে বর্তমান বিধিমালা প্রযোজ্য থাকবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীদের জন্য বয়স সংক্রান্ত ধারা সমন্বয় করা হলো, যা কার্যকরভাবে প্রবেশ প্রক্রিয়াকে আরও নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ করবে।