আসন্ন কূটনৈতিক সংলাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জানান, অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কূটনৈতিক আচরণের কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম অধিকার সুরক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও তাদের অবস্থান হবে সতর্ক ও শর্তসাপেক্ষ।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্যাশা থাকলেও, আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের এমন কঠোর অবস্থান সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সমুদ্রপথে পেতে রাখা নৌ-মাইনগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত ও অপসারণে তেহরান কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাদের মতে, প্রণালিতে মাইন বসানোর প্রক্রিয়া ছিল অগোছালো, ফলে কোথায় কতটি মাইন স্থাপন করা হয়েছে তার নির্ভরযোগ্য নথি নেই। এমনকি কিছু মাইন পানির স্রোতে স্থান পরিবর্তন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত সংঘাতের পর ওই কৌশলগত জলপথে ছোট নৌযানের মাধ্যমে মাইন স্থাপন ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বর্তমানে সীমিত একটি রুট খোলা থাকলেও সেখানে কড়াকড়ি শর্তে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, নির্ধারিত পথের বাইরে গেলে জাহাজগুলো মাইন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের মাইন অপসারণ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ সামরিক অভিযান, যা উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত সক্ষমতা ছাড়া বাস্তবায়ন কঠিন। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
আসন্ন কূটনৈতিক সংলাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জানান, অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কূটনৈতিক আচরণের কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম অধিকার সুরক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও তাদের অবস্থান হবে সতর্ক ও শর্তসাপেক্ষ। উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্যাশা থাকলেও, আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের এমন কঠোর অবস্থান সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান। তার আইনি পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— শেখ হাসিনা ভারতে কোন আইনি স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তিনি ‘অনুপ্রবেশকারী’ নাকি ‘শরণার্থী’? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও কেন্দ্র সরকার এ ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করছে, যা রাজনৈতিক দ্বৈতনীতির ইঙ্গিত বহন করে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নাগরিক তালিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ ইস্যু ঘিরে বিষয়টি এখন কূটনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।